কঙ্গোয় বাস্তুচ্যুতদের শিবিরে ছড়াচ্ছে ইবোলা; ব্যাপক সংক্রমণের শঙ্কা

কঙ্গোর ইজুরি প্রদেশের বুনিয়া শহরে বিরল বুন্দিবুগিও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কাজ করছে সাহায্য সংস্থাগুলো
কঙ্গোর ইজুরি প্রদেশের বুনিয়া শহরে বিরল বুন্দিবুগিও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কাজ করছে সাহায্য সংস্থাগুলো | ছবি: সংগৃহীত
0

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে বাস্তুচ্যুতদের একটি শিবিরে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। এই ঘটনায় সাহায্যকর্মীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ঘিঞ্জি ও জনাকীর্ণ এসব শিবিরে অত্যন্ত দ্রুত এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১১ জুন) প্রকাশিত ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত দুজনই পাংবা শিবিরের বাসিন্দা ছিলেন। ওই শিবিরে বর্তমানে ৩০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত ১৭ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হিসেবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর এখন পর্যন্ত এটি তিনটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইজুরি, দক্ষিণ কিভু ও উত্তর কিভু নামের এই প্রদেশগুলো কয়েক দশকের সংঘাতের কারণে আগে থেকেই বিপর্যস্ত। বর্তমানে এসব এলাকায় ৫০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছেন।

রয়টার্সের দেখা কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে, পাংবা শিবিরের ৬০ বছর বয়সী এক নারীর শরীরে গত ৩০ মে ইবোলা শনাক্ত হয়। কিন্তু এর আগেই তিনি কোয়ারেন্টিন ভেঙে পালিয়ে যান এবং অনুসন্ধানকারী দল তার হদিস পায়নি। সংশ্লিষ্ট এক সাহায্যকর্মী জানান, ওই নারী ৩১ মে মারা যান এবং ১ জুন তার মেয়েও মারা যান। মৃত্যুর পর উভয়ের শরীরেই ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে সংস্থাগুলো মরদেহ উদ্ধারে গেলে স্থানীয়রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। কঙ্গোয় প্রায় মাসব্যাপী চলা এই প্রাদুর্ভাবের সময় ত্রাণ সংস্থাগুলোর প্রতি স্থানীয়দের অবিশ্বাস প্রকট হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা স্বাস্থ্যবিধি এড়াতে গোপনে সংক্রামক মরদেহ দাফন করছেন।

বাস্তুচ্যুতদের শিবিরের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। শত শত মানুষ একটি টয়লেট ভাগাভাগি করে ব্যবহার করেন এবং খোলা জায়গায় মলত্যাগের ঘটনাও নিয়মিত। ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিলের কঙ্গো পরিচালক কেইটলিন ব্র্যাডি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা সবাই খুব চিন্তিত যে এই শিবিরে ইবোলা অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। এতে আতঙ্ক তৈরি হবে এবং অসুস্থ হোক বা না হোক, মানুষ সব জায়গায় পালিয়ে যাবে।’

পাংবা শিবিরের ওই নারীর সংস্পর্শে আসা আটজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আরও সংক্রমণের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সাহায্যকর্মীরা বলছেন, প্লাস্টিকের তার্পোলিনের দেয়াল দেয়া তাবুগুলোতে কেউ অসুস্থ হলে তাকে আলাদা রাখার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই।

শুক্রবার পর্যন্ত কঙ্গোয় ৬৭৬ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেশি দেশ উগান্ডাতেও ১৯ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেইন দ্বারা ছড়াচ্ছে, যার জন্য অনুমোদিত কোনো চিকিৎসা বা টিকা নেই। কয়েক সপ্তাহ ধরে শনাক্ত না হওয়ায় উদ্ধারকর্মীরা এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

এএম