গতকাল (সোমবার, ৮ জুন) বস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ লিও সোরোকিন ট্রাম্প প্রশাসনের এ একতরফা অভিবাসন নীতিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে এ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।
আদালতের এ রায়ের ফলে বিশ্বজুড়ে আইটি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, শিক্ষক ও চিকিৎসকদের মতো উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাদারদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কাজের উদ্দেশে যাওয়ার পথটি আবারও উন্মুক্ত ও সহজ হলো।
গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিশেষ ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে এইচ-ওয়ানবি ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে এই বিশাল অঙ্কের ফি বৃদ্ধি করেছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিলো— এ ভিসা প্রোগ্রামটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে অপব্যবহার করা হচ্ছে। কম বেতনে বিদেশি কর্মী এনে আমেরিকানদের কর্মসংস্থান প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে, যা আমেরিকার অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে।
প্রেসিডেন্টের এই নীতি বাস্তবায়নে ব্যাপক তৎপরতা দেখায় ইমিগ্রেশন বিভাগ। গত সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্পের এই নীতি ঘোষণার মাত্র দুই দিনের মাথায়, অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর বা তার পর থেকে জমা পড়া সমস্ত নতুন আবেদনের ওপর ১ লাখ ডলারের এ বিশাল ফি চাপিয়ে দেয়া হয়।
এর আগে, এই প্রোগ্রামের আওতায় নিয়োগকর্তাদের ১ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ ডলারের মতো ফি দিতে হতো। তবে এই নিয়মটি কেবল বিদেশ থেকে নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা হয়েছিলো, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থাকা কর্মীদের ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে নয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর ও আকস্মিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি ডেমোক্রেটিক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি শক্তিশালী জোট গত ডিসেম্বরে আদালতের দ্বারস্থ হয়।
আরও পড়ুন:
রাজ্যগুলো তাদের মামলায় সতর্ক করে জানায় যে, ১ লাখ ডলারের এই আকাশছোঁয়া ফি’র কারণে আমেরিকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাবলিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং জনস্বাস্থ্যের আওতাধীন চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী বা শিক্ষক নিয়োগ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর ফলে মার্কিন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত গভীর সংকটে পড়বে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক নিযুক্ত বিচারক লিও সোরোকিন উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রাজ্যগুলোর পক্ষে রায় দেন এবং ৪২ পৃষ্ঠার দীর্ঘ ও বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেন। রায়ে বিচারক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এই অর্থপ্রদানের মূল বিষয়বস্তু, আকার এবং প্রয়োগই বলে দেয় যে এটি কোনো সাধারণ ফি নয়, বরং এটি একটি ‘ট্যাক্স’ বা কর।
আমেরিকার সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, ফেডারেল অভিবাসন নীতিতে এই ধরনের বড় কোনো কর বা আর্থিক বাধ্যবাধকতা আরোপ করার একক ক্ষমতা কেবল নিম্নকক্ষ বা কংগ্রেসের রয়েছে। কংগ্রেসের পূর্বানুমতি বা কোনো সংবিধিবদ্ধ আইন ছাড়া দেশের নির্বাহী বিভাগ বা খোদ প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে এমন কর চাপিয়ে দিতে পারেন না।
বিচারক তার রায়ে আরও যুক্ত করেন, ট্রাম্প প্রশাসন বা কোনো ফেডারেল এজেন্সি এই নীতি বাস্তবায়নের পেছনে এবং এইচ-ওয়ানবি প্রোগ্রামের ওপর এত বড় অঙ্কের কর চাপানোর সপক্ষে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা বা প্রমাণ দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
১৯৯০ সালে কংগ্রেস কর্তৃক চালু হওয়া এই বিশেষ ভিসা প্রোগ্রামের অধীনে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার সাধারণ এবং উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য আরও ২০ হাজার কর্মী সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ ছয় বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পান।
এদিকে আদালতের এ রায়কে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না ট্রাম্প প্রশাসন। রায়ের তীব্র সমালোচনা করে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এক বিবৃতিতে একে ‘প্রকাশ্য বিচারবিভাগীয় সক্রিয়তা’ বলে অভিহিত করেছে।





