‘বিপজ্জনক মতাদর্শের আগ্রাসনের’ মুখে ইউরোপ; ডি-ডে অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ | ছবি: সংগৃহীত
0

সমুদ্রপথে আসা ‘বিপজ্জনক মতাদর্শের আগ্রাসনের’ মুখে রয়েছে ইউরোপ—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। আজ (শনিবার, ৬ জুন) ফ্রান্সের নরমান্ডিতে দেয়া বক্তব্যে অভিবাসন ইস্যুকে ঐতিহাসিক ডি-ডে অভিযানের উত্তরাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করেছেন তিনি।

তার এই মন্তব্যে প্রতিধ্বনিত হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইউরোপ-বিষয়ক চিরাচরিত সমালোচনার সুর। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, দুর্বল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অভিবাসন মোকাবিলায় ব্যর্থতা, অপ্রয়োজনীয় লাল ফিতার দৌরাত্ম্য এবং কট্টর ডানপন্থি ও জাতীয়তাবাদী কণ্ঠস্বরকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে ‘সেন্সরশিপ’ চালানোর কারণে ইউরোপ ভুগছে।

কলেভিল-সুর-মেরের নরমান্ডি আমেরিকান সিমেট্রিতে দেয়া বক্তব্যে হেগসেথ বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আজ ইউরোপের ভিন্ন ভিন্ন সমুদ্রসৈকতে ভিন্ন এবং বিপজ্জনক মতাদর্শের হামলা চলছে। স্পেন, ইতালি, গ্রিস ও বুলগেরিয়ার উপকূলে নৌকা ভিড়ছে, আসছে মানুষ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপের রাজধানীগুলো কবে এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কিছু করবে? নাকি অনেক দেরি হয়ে গেছে? আমি প্রার্থনা করি, যেন না হয়। আমি বিশ্বাস করি, এখনো দেরি হয়নি।’

মিত্রবাহিনীর নরমান্ডি অবতরণের ৮২তম বার্ষিকী স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হেগসেথ এই বক্তব্য দেন। ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রবাহিনী ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে নাৎসি দখলদারিত্ব থেকে পশ্চিম ইউরোপকে মুক্ত করার অভিযান শুরু করেছিল।

ট্রাম্পসহ মার্কিন কর্মকর্তারা প্রায়ই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও একই সুরে কথা বলেছেন।

গত বছর প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নথিতে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, ইউরোপ ‘সভ্যতা মুছে যাওয়ার’ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে থাকতে হলে ইউরোপকে অবশ্যই পথ পরিবর্তন করতে হবে।

ওই নথি এবং ট্রাম্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অন্যান্য মন্তব্য সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্রের সঙ্গে ইউরোপের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিষয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ধারণাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে ইউরোপের রাজধানীগুলো এখন মার্কিন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষার ওপর নির্ভরশীলতা থেকে সরে এসে বৈচিত্র্যময় উৎসের দিকে যাওয়ার তাগিদ অনুভব করছে।

এএম