গত সেপ্টেম্বরে ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকার বিরুদ্ধে বোমা হামলার একটি অভিযান শুরু করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই অভিযানে অন্তত ২১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সমতুল্য বলে এই অভিযানের সমালোচনা হয়েছে।
হেগসেথ সাংবাদিকদের জানান, ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ১৯ দেশের একটি জোট এই মাদকবিরোধী স্থল অভিযানের বিষয়টি এজেন্ডায় রেখেছে। এই জোট মাদক চক্র যেখানেই সক্রিয় থাকবে, সেখানেই বিস্তৃত হতে পারে বলে জানান তিনি।
এএফপি জানিয়েছে, হেগসেথ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরে ‘মাদকবাহী নৌকায় হামলার মতো একই ধরনের অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা’ নিয়ে তার মিত্রদের সঙ্গে সেনা মোতায়েনের আশা করছে। বুধবার রাতে পানামার জঙ্গলের একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে হেগসেথ বলেন, মাদক পাচারকারী সংগঠনগুলোর (ডিটিও) বিরুদ্ধে স্থলে লড়াই নিতে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইকুয়েডর, কলম্বিয়া ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে। যাতে সমুদ্রের মতোই স্থলে একই প্রভাব ফেলা যায়।’ ২০-এর বেশি দেশের অংশগ্রহণে বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে তিনি পানামায় সফর করেছেন।
সবুজ শার্ট পরে সেনাদের ঘেরাটোপে দাঁড়িয়ে হেগসেথ বলেন, ‘আপনি যেখানেই মাদক পাচার করবেন কিংবা আমেরিকান জনগণ বা আমাদের অংশীদারদের প্রতি হুমকি হবেন, সেখানেই আপনি আইএস বা আল-কায়েদার মতোই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবেন।’
‘আমেরিকানস কাউন্টার কার্টেল কোয়ালিশন’ নামের এই জোটে ডানপন্থি সরকার শাসিত আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, হন্ডুরাস ও পেরুর মতো দেশ রয়েছে। হেগসেথ বলেন, মাদক চক্রগুলোকে অবশ্যই ‘সতর্ক অবস্থায়’ থাকতে হবে। বামঘেঁষা সরকারের দেশ মেক্সিকো এই জোটে নেই। যদিও দেশটি শক্তিশালী মাদক কার্টেলগুলোর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় হামলার পক্ষেও যুক্তি দিয়েছেন হেগসেথ। যদিও আইনি বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়েছে যে এই ধরনের হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল হতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমেরিকান সরকারের প্রতিটি সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আমরা এই নেটওয়ার্কগুলোকে ঘিরে ধরে ধ্বংস করব।’





