ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ইন্দোনেশিয়ার উপমন্ত্রী

ইন্দোনেশিয়ার উপ-অভিবাসন মন্ত্রী সিলমি করিম
ইন্দোনেশিয়ার উপ-অভিবাসন মন্ত্রী সিলমি করিম | ছবি: সংগৃহীত
0

দুর্নীতির অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ার উপ-অভিবাসন মন্ত্রী সিলমি করিমকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থা কেপিকে। বৃহস্পতিবার এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। এ নিয়ে গত দুই দিনে ইন্দোনেশিয়ায় উচ্চপদস্থ দুই সরকারি কর্মকর্তা দুর্নীতির অভিযোগে আটকের মুখে পড়লেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এ ঘটনার মাত্র এক দিন আগে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর বিশেষ ‘ফ্রি মিল’ বা বিনামূল্যে খাবার কর্মসূচির তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থার সাবেক প্রধান দাদান হিন্দায়ানকে গ্রেপ্তার করেছিল দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় (এজিও)। তবে এই দুই দুর্নীতির মামলার মধ্যে কোনো সরাসরি সংযোগ নেই বলে জানানো হয়েছে।

কেপিকে প্রধান সেত্যো বুদিয়ান্তো বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, বিদেশিদের অবস্থান বা স্টে পারমিট ইস্যু করার ক্ষেত্রে একটি ‘পরিকল্পিত’ চাঁদাবাজি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে উপ-অভিবাসন মন্ত্রী সিলমি করিম এবং আরও সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। বুধবার রাত থেকেই সিলমি করিমকে কেপিকে কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে হাতকড়া পরা অবস্থায় এবং কমলা রঙের কয়েদির জ্যাকেট পরে বের হতে দেখা যায়। পরে তাকে একটি ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, এই দুর্নীতির ঘটনাগুলো ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঘটেছে। ওই সময় সিলমি করিম সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর অধীনে অভিবাসন বিষয়ক মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো দুর্নীতি নির্মূল এবং অবৈধ প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ বন্ধের শপথ নিয়েছিলেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার পৃথক এক রায়ে দেশটির একটি আদালত সাবেক উপ-শ্রমমন্ত্রী ইমানুয়েল ইবেনেজারকে সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। নিরাপত্তা পারমিট সংক্রান্ত দুর্নীতির দায়ে গত বছর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রাবোও ক্যাবিনেটের তিনিই প্রথম সদস্য যিনি ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হলেন। এছাড়া গত এপ্রিলে নিয়োগ পাওয়ার মাত্র ছয় দিনের মাথায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন দেশটির প্রধান ন্যায়পাল (ওম্বুডসম্যান)।

দুই দিনের ব্যবধানে দুই শীর্ষ কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্টেট সেক্রেটারিয়েট মন্ত্রী প্রসেত্যো হাদি। তিনি বলেন, ‘গত দুই দিনে যা ঘটেছে তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা এমনটি আশা করিনি।’ তবে সরকার দুর্নীতি দমন সংস্থা ও অ্যাটর্নি জেনারেলের আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেও জানান তিনি।

এএম