ধেয়ে আসছে ‘এল নিনো’; বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সতর্কবার্তা

আবহাওয়ার বিপর্যয়ে ফসলি জমি
আবহাওয়ার বিপর্যয়ে ফসলি জমি | ছবি: সংগৃহীত
0

ভয়ংকর রূপে ধেয়ে আসছে ‘এল নিনো’। এতে করে চলতি বছর বৈশ্বিক আবহাওয়া চরম পর্যায় পৌঁছাবে বলে সতর্ক করলো বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। অস্বাভাবিক তাপমাত্রা যেমন বাড়বে, তেমনি ভারী বৃষ্টিপাতের শঙ্কাও তুলে ধরেছে সংস্থাটি। এটিকে জরুরি জলবায়ু সতর্কবার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

ভয়াবহ তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস করছে এশিয়া-ইউরোপের বহু দেশ। তীব্র গরমে মে মাসে স্পেনে প্রাণ গেছে শতাধিক মানুষের। যা ২০১৫ সালের পর একমাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। একই সময় ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবে নাকাল অবস্থায় জাপান। আর ভয়াবহ বৃষ্টিপাত ও বন্যার শঙ্কায় ব্রাজিল।

জলবায়ুর এমন ক্ষতিকর প্রভাবের মধ্যে ‘এল নিনো’ নিয়ে ভয়ংকর বার্তা দিলো বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা-ডব্লিউএমও। সংস্থাটির দাবি, জুন থেকে আগস্টের মধ্যে ‘এল নিনো’ সক্রিয় হওয়ার শঙ্কা ৮০ শতাংশ। আর নভেম্বরের মধ্যে এর শক্তি সঞ্চয়ের আশঙ্কা প্রায় ৯০ ভাগ। এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া তৈরির ঝুঁকি রয়েছে। ফলে আগামী তিন মাস পৃথিবীর প্রায় সব অংশেই অস্বাভাবিক তাপমাত্রার পূর্বাভাস রয়েছে। এমনকি ভারী বৃষ্টি ও খরার বিষয়েও সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।

ডব্লিউএমও’র মহাসচিব সেলেস্টে সাওলোও বলেন, ‘আমরা উচ্চ তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তনের সঙ্গে চরম তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বৃদ্ধিরও আশঙ্কা করছি। যা মানব স্বাস্থ্য, বাস্তুতন্ত্র, কৃষি এবং শক্তি ব্যবস্থার উপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে।

এল নিনো পরিস্থিতি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের আগুনে ঘি ঢালবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাই আসন্ন প্রত্যাবর্তনে আরও চরম প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলার জন্য বিশ্বকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়ার বিষয়ে সতর্ক করলেন তিনি।

আরও পড়ুন:

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘এল নিনোর পরিস্থিতি উষ্ণায়নশীল বিশ্বের আগুনে ঘি ঢালবে। এর প্রভাব আরও তীব্রভাবে আঘাত হানবে, আরও দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে এবং বিধ্বংসী গতিতে অতিক্রম করবে। এর একমাত্র কার্যকর প্রতিক্রিয়া হলো এ সংকটের সমতুল্য। ভালবায়ু পদক্ষেপ গ্রহণ করা। জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতার অবসান ঘটানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করা।’

সর্বশেষ ২০২৩-২৪ সালে আঘাত হেনেছিল এল নিনো। তা ছিলো এযাবৎকালের পাঁচটি শক্তিশালী এল নিনোর মধ্যে অন্যতম। এর ফলে ২০২৪ সালটি ছিল প্রচণ্ড গরমের বছর, যা বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল। ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছিলো ভয়াবহ দাবনল।

সাধারণত মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘এল নিনো’ বলা হয়। প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর এটি ফিরে আসে এবং নয় থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বাতাস, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।

ডব্লিউএমওর তথ্য বলছে, এবার এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশ, হর্ন অব আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে তীব্র খরা দেখা দিতে পারে। আর মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হ্যারিকেন বা ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা রয়েছে।

জেআর