হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ ওমানের সঙ্গে এবার বিবাদে জড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, ওমান যদি অন্য দেশের মতো আচরণ না করে তাহলে দেশটিতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। আর এর মধ্য দিয়ে মার্কিন এ প্রেসিডেন্টে হুমকির তালিকায় ১৫ তম দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত হলো ওমান।
তবে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যে নড়েচড়ে বসেছে পুরো বিশ্ব। কারণ এটি শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে মন্তব্য নয় বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি হুমকি। এদিকে ট্রাম্পের এই হুমকি বা আক্রমণের প্রবণতা নিয়ে এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সিএনএন।
আরও পড়ুন:
প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প তার দুই মেয়াদে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫টি দেশকে আক্রমণ করেছেন বা আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন। আর বর্তমান মেয়াদে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭টি দেশে সরাসরি সামরিক হামলা চালিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইরান, ইরাক, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেন। অবশ্য সব হামলা একই ধরনের ছিল না। কিছু হামলা ছিল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আবার কিছু ছিল রাষ্ট্রীয় লক্ষ্যবস্তুতে।
শুধু হামলা নয়, আরও কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি বা পরোক্ষ হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প । সেগুলো হলো; কানাডা, কলম্বিয়া, কিউবা, গ্রিনল্যান্ড -ডেনমার্কের অংশ, মেক্সিকো, পানামা ও ওমান। এ ছাড়া, তার প্রথম মেয়াদে উত্তর কোরিয়া ও মেক্সিকোও এই ধরনের হুমকির অন্তর্ভুক্ত ছিলও।
তবে বিশ্লেষকদের অভিমত, পররাষ্ট্রনীতিতে ট্রাম্পের এহেন আচরণ ম্যাডম্যান থিওরি বা পাগল তত্ত্বের নামক কৌশলের সঙ্গে মিলে যায়। আর তাই যদি হয়, এই তত্ত্বের নিয়ম অনুযায়ী ট্রাম্প নিজেকে অনিশ্চিত, অপ্রত্যাশিত এবং কঠোর হিসেবে তুলে ধরেছেন। আর তাতে প্রতিপক্ষ দেশগুলো ভয় পেয়ে তার শর্ত মেনে নিবে। তবে এই কৌশলের বড় সমস্যা হলো—এতে ভুল বোঝাবুঝি তৈরিসহ সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





