ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীন ও রাশিয়া বেশ কিছু যৌথ সামরিক মহড়া দিলেও বেইজিং বরাবরই নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করে আসছে। কিন্তু ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বেইজিংয়ে দুই দেশের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সই করা একটি দ্বিভাষিক চুক্তিতে এই গোপন প্রশিক্ষণের রূপরেখা দেয়া হয়। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা ওই চুক্তি অনুযায়ী, বেইজিং ও নানজিংয়ের মতো সামরিক স্থাপনাগুলোতে রুশ সেনাদের ড্রোন চালানোসহ বিভিন্ন যুদ্ধকৌশল শেখানো হয়েছে। বিনিময়ে কয়েক’শ চীনা সেনারও রাশিয়ায় প্রশিক্ষণ নেয়ার কথা রয়েছে।
একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘রাশিয়াকে কৌশলগত ও ব্যবহারিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে চীন এখন ইউক্রেন যুদ্ধে আগের চেয়ে অনেক বেশি সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে।’ তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা শান্তি আলোচনার পক্ষে কাজ করছে এবং কোনো পক্ষের উচিত নয় উদ্দেশ্যমূলকভাবে বেইজিংয়ের ওপর দোষ চাপানো।
ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। দূরপাল্লার ড্রোন থেকে শুরু করে আত্মঘাতী এফপিভি ড্রোন—সবই ব্যবহার করছে দুই পক্ষ। রয়টার্সের দেখা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ সামরিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ সেশনে রুশ সেনাদের ৮২ মিলিমিটারের মর্টার ছোড়া, ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং মাইন অপসারণের কৌশল শেখানো হয়েছে। একটি ছবিতে দেখা গেছে, ইউনিফর্ম পরা রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন চীনা প্রশিক্ষকেরা।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, চীনে প্রশিক্ষণ নেয়া রুশ সেনাদের মধ্যে জুনিয়র সার্জেন্ট থেকে শুরু করে লেফটন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে এরইমধ্যে ইউক্রেনের অধিকৃত ক্রিমিয়া ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে ড্রোন অভিযানে অংশ নিতে দেখা গেছে। চীনের বিশাল ড্রোন শিল্প এবং অত্যাধুনিক ফ্লাইট সিমুলেটর ব্যবহার করে দেয়া এই প্রশিক্ষণ ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।





