‘উত্তরের রাজা’ অ্যান্ডি বার্নহাম; যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন কী?

‘উত্তরের রাজা’ অ্যান্ডি বার্নহাম; যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন কী? | ছবি: সংগ্রহীত
0

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজ দলের ভেতরেই পদত্যাগের চাপে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম উত্তরাঞ্চলীয় অ্যাশটন-ইন-মেকারফিল্ড আসনে উপনির্বাচনে লড়ে পার্লামেন্টে ফেরার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তার সমর্থকদের দাবি, আগামী সেপ্টেম্বরে লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনের আগেই স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে তিনিই সেরা প্রার্থী। আল জাজিরার বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে লেবার পার্টি ক্ষমতায় এলেও জনমত জরিপে তাদের অবস্থান এখন বেশ নড়বড়ে। কখনো কখনো ডানপন্থী রিফর্ম পার্টির চেয়েও তারা পিছিয়ে পড়ছে। ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, সত্তরের দশকের পর যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী এখন কিয়ার স্টারমার। ঠিক এমন সময়েই ‘উত্তরের রাজা’ খ্যাত ৫৬ বছর বয়সী অ্যান্ডি বার্নহাম দলটির অন্যতম জনপ্রিয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। লন্ডনের অভিজাত রাজনৈতিক বলয়ের বাইরের এই নেতা উপনির্বাচনে জয়ী হলে কিয়ার স্টারমারসহ শীর্ষ নেতাদের সরে দাঁড়াতে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নিজেকে বরাবরই প্রথাগত রাজনীতির বাইরের মানুষ হিসেবে তুলে ধরতে ভালোবাসেন বার্নহাম। তবে তিনি লেবার পার্টির প্রথম সারির নেতা হিসেবে সরকার ও বিরোধী দলেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১০ ও ২০১৫ সালে দলীয় প্রধান হওয়ার দৌড়েও ছিলেন। তবে প্রথাগত রাজনীতির প্রতি তার মোহভঙ্গ শুরু হয় ২০০৯ সালে সংস্কৃতিমন্ত্রী থাকার সময়।

হিলসবরো ট্র্যাজেডি নিয়ে দীর্ঘ বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছিলেন, ব্রিটিশ রাষ্ট্র কীভাবে দুই দশক ধরে একটি শহরের ন্যায়বিচারের দাবিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপেক্ষা করেছিল, তা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টারের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি শহরের পরিবহনব্যবস্থা, আবাসন ও গৃহহীনদের নিয়ে ব্যাপক কাজ করে প্রশংসা কুড়ান। করোনা মহামারির সময় তহবিলের দাবিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তার লড়াই তাঁকে ‘উত্তরের রাজা’ খেতাব এনে দেয়।

বৈশ্বিক রাজনীতিতেও বার্নহামের স্বতন্ত্র অবস্থান রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা যখন ইসরাইলকে সমর্থন দিচ্ছিলেন, তখন তিনি গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবি তোলেন। তিনি অবৈধ বসতি স্থাপন ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচক। ২০১২ সালে তিনি বলেছিলেন, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র কোনো উপহার নয়, বরং এটি স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকার।’ তবে তিনি ইসরাইল সমর্থক সংগঠন ‘লেবার ফ্রেন্ডস অব ইসরাইল’-এরও সদস্য। অন্যদিকে, ইরাক যুদ্ধের পক্ষে ভোট দিলেও পরে তিনি স্বীকার করেছেন, এই যুদ্ধে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং এর ফলে সন্ত্রাসবাদ আরও মাথাচাড়া দিয়েছে। এ ছাড়া তিনি ব্রেক্সিটের ঘোর বিরোধী এবং ন্যাটো জোটের কট্টর সমর্থক।

সব মিলিয়ে বার্নহামের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে যাওয়ার পথটি খুব একটা মসৃণ নয়। অ্যাশটন-ইন-মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে তাকে ডানপন্থী রিফর্ম পার্টির শক্ত প্রতিরোধের মোকাবিলা করতে হবে। রিফর্ম পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ এরইমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, এই আসনে জিততে তারা সর্বশক্তি নিয়োগ করবেন। তাই ‘উত্তরের রাজা’ তকমা জুটলেও বার্নহামের মাথায় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর মুকুট উঠবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

এএম