মস্কোয় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পেসকভ জানান, সফরের প্রস্তুতি প্রায় শেষ এবং চীনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই এর নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা শিগগিরই তারিখ জানাবো। শুধু শেষ মুহূর্তের কিছু কাজ বাকি। এটি খুব শিগগিরই হতে যাচ্ছে।’
ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল গত ফেব্রুয়ারিতে, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। সেই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, বৈশ্বিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও কৌশলগত স্থিতিশীলতার মতো আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পর রাশিয়া-চীন যোগাযোগ কেমন হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে পেসকভ বলেন, ট্রাম্পের সফরের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে রাশিয়ার নেতৃত্ব আশাবাদী।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের ঘোষণার বিষয়ে পেসকভ জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেন বন্দিবিনিময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে তালিকা সমন্বয়ের কাজ চলছে, যা প্রক্রিয়ার সবচেয়ে কঠিন অংশ হলেও দ্রুত এগোচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যস্থতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র। তিনি বলেন, ইউরোপ ‘কার্যত সরাসরি’ কিয়েভের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। যারা রাশিয়ার পরাজয় চায়, তাদের পক্ষে মধ্যস্থতা করা সম্ভব নয়।
রাশিয়ার সারমাট আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়েও কথা বলেন পেসকভ। তিনি জানান, কোনো বিদেশি রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এর প্রতিক্রিয়া না জানালেও গণমাধ্যমে এ নিয়ে বেশ শোরগোল উঠেছে। পেসকভ দাবি করেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়া আগামী অনেক বছরের জন্য নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
ভারতের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে পেসকভ বলেন, সব ধরনের বিধিনিষেধের পরও রাশিয়ার জ্বালানি সম্পদের অনেক ক্রেতা রয়েছে। রাশিয়া এখনো তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের নির্ভরযোগ্য বিক্রেতা হিসেবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলেছে।
ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সাবেক প্রধান আন্দ্রি ইয়ারমাকের দুর্নীতির মামলা নিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র জানান, এটি তাদের আলোচ্যসূচিতে নেই। তবে এটি প্রমাণিত হলে তা কিয়েভ সরকার ও তাদের অর্থদাতাদের জন্য সমস্যার কারণ হবে। এই মামলা মস্কো ও কিয়েভের শান্তি প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন তিনি।





