এই সফরের মূল উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন কমানো। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি শি জিনপিংকে চীনের বাজার বড় মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য আরও উন্মুক্ত করার আহ্বান জানাবেন। একই সঙ্গে চীনের কাছ থেকে আরও বেশি মার্কিন কৃষিপণ্য ও বিমানাংশ কেনার বিষয়ে চাপ দিতে চান তিনি। গত অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
তাইওয়ান ইস্যু বৈঠকের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান প্রশ্ন সঠিকভাবে সামলাতে না পারলে দুই দেশের সম্পর্ক বিপজ্জনক মোড় নিতে পারে, এমনকি সংঘাতও তৈরি হতে পারে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ মনে করে, তবে দ্বীপটি নিজেকে স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে দেখে। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এক চীন নীতি’ মেনে চললেও তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ।
বৈঠকে শি জিনপিং ‘থুসিডাইডস ট্র্যাপ’ প্রসঙ্গও তোলেন—একটি রাজনৈতিক তত্ত্ব, যেখানে বলা হয় উদীয়মান শক্তির উত্থানকে ভয় পেয়ে প্রতিষ্ঠিত শক্তি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। শি এই ফাঁদ এড়িয়ে সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরুর আহ্বান জানান।
ইরান যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও ট্রাম্প বলেছেন, ইরান সংকট সমাধানে তার চীনের সহায়তার প্রয়োজন নেই, তবু ওয়াশিংটন চাইছে বেইজিং তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করুক। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিরল খনিজ সম্পদ এবং উন্নত চিপ প্রযুক্তি নিয়েও দর-কষাকষি হতে পারে।
এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে রয়েছেন এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং, অ্যাপলের টিম কুক, টেসলার ইলন মাস্কসহ শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ী নেতারা। শুক্রবার ঝংনানহাই সফর ও আরেক দফা বৈঠকের পর ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার কথা রয়েছে।





