বোর্ডোইন কলেজের এশীয় শিক্ষা বিষয়ের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার হার্লিন মনে করেন, এই সম্মেলনে ইরান ইস্যুটি কোনো পক্ষের জন্যই প্রধান আলোচ্য বিষয় নয়। তার মতে, শি জিনপিংয়ের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তাইওয়ান, অন্যদিকে ট্রাম্প চাইবেন চীন যেন আরও বেশি মার্কিন সয়াবিন আমদানির প্রতিশ্রুতি দেয়। চীন ইরানের তেলের বড় ক্রেতা হওয়ায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তাদের অর্থনীতিও চাপে আছে। তবে বেইজিং এই সংকটকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দর-কষাকষির হাতিয়ার বা ‘লিভারেজ’ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘অজেয় যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছে, যা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামিয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় হয়ে বেইজিংয়ে গিয়েছেন। ব্রিটিশ সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ সম্প্রতি তাদের প্রচ্ছদে শি জিনপিং ও ট্রাম্পের ছবি দিয়ে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের একটি বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করেছে: ‘শত্রু যখন ভুল করতে থাকে, তখন তাকে বাধা দিও না।’
সিটি সেন্ট জর্জের আন্তর্জাতিক রাজনীতির অধ্যাপক ইন্দরজিৎ পারমার বলেন, ‘ট্রাম্প এখন বেশ চাপে আছেন। হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে তার চীনের সমর্থন প্রয়োজন। অন্যদিকে চীনও তাদের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে এটি খুলে দিতে চায়, কিন্তু তারা চাইবে এর বিনিময়ে তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বড় কোনো সুবিধা আদায় করে নিতে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন যে চীন ইরানের তেল কিনে ‘সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন’ করছে। তিনি বেইজিংকে কূটনৈতিকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের উত্তর-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং মনে করেন, দুই দেশই প্রণালিটি খুলতে চাইলেও তাদের পদ্ধতি আলাদা। ট্রাম্প প্রতিদিন ইরানকে হামলার হুমকি দিচ্ছেন, আর চীন চাইছে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান।
চীনের এই সহায়তার বিনিময়ে তাদের প্রধান চাওয়া হতে পারে তাইওয়ানকে ১৪ বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহের চুক্তিটি বাতিল করা, যা বর্তমানে ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। শি জিনপিং চাইবেন ট্রাম্প যেন তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন না করার বিষয়ে আরও জোরালো অবস্থান নেন। ফলে ইরান সংকট নিরসনে বেইজিংকে পাশে পেতে হলে ট্রাম্পকে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে বড় কোনো আপস করতে হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।





