সঙ্কটে কিয়ার স্টারমার: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর উত্তরসূরি হতে পারেন যারা

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম,অ্যাঞ্জেলা রেনার ও ওয়েস স্ট্রিটিং
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম,অ্যাঞ্জেলা রেনার ও ওয়েস স্ট্রিটিং | ছবি: সিএনএন
0

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন। জেফরি এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে বিতর্কিত লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে। স্টারমার নিজেই স্বীকার করেছেন যে ম্যান্ডেলসন ও শিশু যৌন অপরাধী এপস্টেইনের সম্পর্কের বিষয়ে জানতেন। এরপরই নিজ দলের ভেতরে-বাইরে তার বিচারবুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাজ্যের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত সোমবার স্কটিশ লেবার নেতা আনাস সারওয়ার সরাসরি স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। লেবার পার্টির বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী নীতিনির্ধারক মর্গান ম্যাকসুইনি এবং ডাউনিং স্ট্রিটের যোগাযোগ পরিচালক টিম অ্যালানের বিদায় প্রধানমন্ত্রীর ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। যদিও স্টারমার দাবি করেছেন তিনি পদত্যাগ করবেন না, তবে দলের ২০ শতাংশ এমপি তার বিরুদ্ধে দাঁড়ালে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে। এই ডামাডোলে স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম সামনে আসছে।

অ্যাঞ্জেলা রেনার
সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারকে স্টারমারের অন্যতম উত্তরসূরি ভাবা হচ্ছে। সম্প্রতি ম্যান্ডেলসন নিয়োগের নথি প্রকাশে বাধা দেয়ার সরকারি চেষ্টার বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে তিনি আলোচনায় এসেছেন। ট্রেড ইউনিয়নগুলোর বড় একটি অংশ রেনারকে শীর্ষ পদে দেখতে আগ্রহী। গত মাসে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এখনো ফুরিয়ে যাইনি।’

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরেই স্টারমারের নেতৃত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত। অনেক এমপি তাকে কিয়ার স্টারমারের যোগ্য বিকল্প মনে করেন। সম্প্রতি তিনি পার্লামেন্ট নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইলে লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটি (এনইসি) তাতে বাধা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, স্টারমার ও তার সহযোগীরা নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ এড়াতে বার্নহ্যামের পথ আটকে দিয়েছেন।

ওয়েস স্ট্রিটিং
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের সমর্থকদের মধ্যে স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি স্ট্রিটিং ও ম্যান্ডেলসনের মধ্যকার কিছু ব্যক্তিগত বার্তা জনসমক্ষে আসায় বিতর্ক শুরু হয়েছে, যেখানে স্টারমারের অর্থনৈতিক ও মধ্যপ্রাচ্য নীতির কড়া সমালোচনা ছিল। অনেকে একে স্টারমারের কাছ থেকে দূরত্ব তৈরির কৌশল হিসেবে দেখছেন। ৪৩ বছর বয়সী এই ক্যারিশম্যাটিক নেতার প্রতি জনসমর্থন থাকলেও দলের বামপন্থীরা তাকে বেশি রক্ষণশীল মনে করেন।

শাবানা মাহমুদ
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। গত বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও তার প্রতি এক ধরনের সমর্থন জানিয়েছিলেন। তবে তার রাজনৈতিক অবস্থান স্ট্রিটিংয়ের কাছাকাছি হওয়ায় দুজনের একই সঙ্গে নির্বাচনে লড়ার সম্ভাবনা কম।

এড মিলিব্যান্ড
লেবার পার্টির বামপন্থীরা আবারও সাবেক নেতা এড মিলিব্যান্ডের দিকে ঝুঁকতে পারেন। ২০১৫ সালে হারের পর এখন তিনি নতুন উদ্যমে সবুজ জ্বালানি ও ‘নেট জিরো’ নীতি নিয়ে সরব। ৫৬ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ নেতা বর্তমানে দলের সাধারণ সদস্যদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

এএম