এমন এক সময়ে এই হুমকি এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পাঠানো ইরানের প্রস্তাবকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পেস ফোর্স’ দিয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি কেউ ওই স্থাপনার ধারেকাছে যায়, আমরা তা জেনে যাব এবং তাদের উড়িয়ে দিব।’ ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দিতে পারি না; কারণ তারা উন্মাদ।’
এদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি সূত্রে ইরানের প্রস্তাবের কিছু অপ্রকাশিত তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, ইরান পাঁচ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছে; যদিও যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের স্থগিতাদেশ চেয়েছিল।
এছাড়া তেহরান তাদের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান প্রস্তাব দিয়েছে যে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার এক মাসের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে ‘বিস্তৃত ও আলাদা’ আলোচনা শুরু হতে পারে।
তেহরান আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিলে তারা হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে প্রস্তুত। এর বিনিময়ে তারা জব্দ করা কোটি কোটি ডলার ফেরত, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
পর্দার আড়ালে কাতার ও মিসর এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় সহায়তা করলেও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।





