হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিতের কন্যা ভিভিয়ানার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ইরান। বিষয়টি শুরুতে অবাক লাগলেও আসলে ছোট্ট এই শিশুর জন্মদিনের মধ্য দিয়ে মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে মার্কিন হামলায় নিহত ইরানি শিশুদের কথা।
গেলো ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের স্কুলে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে নিহত হন অন্তত দেড়শ' মানুষ। যার মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। মূলত সন্তানের মা ক্যারোলিনকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতেই তেহরানের এ শুভেচ্ছা বার্তা।
এতো শিশুর প্রাণ নিয়েও ক্ষান্ত হয়নি যুক্তরাষ্ট্র। বন্ধ করেনি যুদ্ধের দামামা। হরমুজ প্রাণালিতে ইরানের ওপর অবরোধ দিয়ে আরও বড় করছে সংঘাত। এরইমধ্যে গেলো ১৩ এপ্রিলের পর থেকে ইরানের ৪টি জাহাজ ধ্বংস ও ৫৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়ার দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। এছাড়াও নতুন হামলার লাগাতার হুমকি দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।
আরও পড়ুন:
তবে ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জবাব-ইরানি জাহাজে হাত বাড়ালে তেহরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো। শনিবার এ হুঁশিয়ারি দেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড প্রধান। জানান, শত্রুপক্ষের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাক করা রয়েছে।
শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয় অন্য কোন দেশ যদি ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় হরমুজ প্রাণালিতে তাদেরও বড় ধরণের সমস্যায় পড়তে হবে। তাসনিম নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ইরানের বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র।
হরমুজে অবরোধ দিয়ে একদিকে যখন ইরানকে নাস্তানাবুদ করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র, সেই সুযোগে রমরমা তেলের ব্যবসা করছে মার্কিন মিত্র সৌদি আরব। বছরের প্রথম তিন মাসে ১২০ বিলিয়ন রিয়াল লাভ করেছে বলে জানায় সৌদি আরামকো। যা গেলো বছরের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি।
এদিকে যুদ্ধের প্রায় আড়াই মাসেও পৌঁছানো যায়নি শান্তিচুক্তিতে। পারমানবিক কর্মসূচী, ইউরেনিয়াম, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি, হরমুজ থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেয়া এসব বিষয় নিয়ে নতুন করে প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ থেকে নতুন এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া মিলবে বলে প্রত্যাশা ওয়াশিংটনের।
এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে বিক্ষোভ হয়েছে ইসরাইলের তেল আবিবে। সেসময় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবি করেন তারা।





