বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ ফেরত পাঠাতে কাজ করছে সরকার: দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার

নিহত শিক্ষার্থী জামিল লিমন
নিহত শিক্ষার্থী জামিল লিমন | ছবি: সংগৃহীত
0

লিমন ও বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিশামের বিষয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে প্রসিকিউটর। প্রতিবেদনে নিখোঁজের দিন থেকে গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত হিশামের প্রতি মূহুর্তের সন্দেহজনক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এদিকে, ফিউনারেল হোমে থাকা লিমনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত পাঠাতে সরকার কাজ করছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার। আর লিমন ও বৃষ্টির শোকাহত পরিবারের আর্থিক সহায়তায় গো ফান্ড মি নামে অনলাইন ক্যাম্পেইন খোলা হয়েছে।

উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো দুই শিক্ষার্থী জামিল ও বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রতি মুহূর্তে সামনে আসছে নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

মঙ্গলবার মূল অভিযুক্ত হিশামকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক। এছাড়াও, দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজের দিন থেকে মরদেহ উদ্ধার পর্যন্ত প্রতিদিনের বিবরণ প্রকাশ করেছেন প্রসিকিউটর। এক সপ্তাহের মধ্যে খুন ও মরদেহ সরানো সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের সমাধান খুঁজতে চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করে অভিযুক্ত হিশাম।

সিএনএন বলছে, গেল ১৬ এপ্রিল নিখোঁজের দিনও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ছিল বৃষ্টি। আর জামিলের ফোন ট্রাক করে জানা যায়, সেদিন স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার ক্লিয়ারওয়াটারে অবস্থান করছিলেন তিনি। সেসময় ওই এলাকায় সাদা রঙের প্রাইভেটকার নিয়ে উপস্থিত ছিলেন হিশাম। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আবর্জনা রাখার ব্যাগ, ঘর পরিষ্কারের লাইজল, দুর্গন্ধনাশকসহ কিছু সামগ্রী অর্ডার করেন অভিযুক্ত। পরে ডোরড্যাশ নামে একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠান সেগুলো লিমন ও হিশামের অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছে দেন।

আরও পড়ুন:

এরপরের দিন মধ্যরাতে অন্তত দুবার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুতে যান হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ওই যুবক।

তদন্তের নাটকীয় মোড় আসে ২৩ এপ্রিল। এদিন একটি ময়লার ভাগাড় থেকে হিলসবরো শেরিফ কাউন্টি রক্তমাখা ফ্লোর ম্যাট, বৃষ্টির ফোনের কভার ও লিমনের পোশাক, চশমা ও মানিব্যাগ উদ্ধার করে। এছাড়াও, তদন্তকারীদের জেরার মুখে নানা মিথ্যা তথ্য দেন হিশাম। এসময় তার বাঁ হাতে ব্যান্ডেজ জড়ানো ছিল। হিশামের দাবি, পেঁয়াজ কাটার সময় ক্ষতের স্বীকার হন তিনি।

এদিকে, জামিলের মরদেহ ট্যাম্পার একটি ফিউনারেল হোমে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা জানান, টিকিট পাওয়া সাপেক্ষে যতদ্রুত সম্ভব দেশে পাঠানো হবে জামিলের মরদেহ। যার খরচ বহন করবে বাংলাদেশ সরকার।

আর নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গো-ফান্ড মি নামে একটি তহবিল খোলা হয়েছে। এটি খোলার ১৩ ঘণ্টা না পেরোতেই বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯০ লাখ টাকা। ফান্ডের উদ্যোক্তারা জানান, প্রাপ্ত অর্থ নিহতদের পরিবারের মাঝে তুলে দেয়া হবে।

ইএ