মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট গতকাল (শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে বলেন, ‘তেহরান মরিয়া হয়ে দেশের বাইরে যে অর্থ সরানোর চেষ্টা করছে, আমরা সেই অর্থের উৎস অনুসরণ করছি। এই শাসনের সঙ্গে যুক্ত সব আর্থিক লাইফলাইন আমাদের লক্ষ্যবস্তু হবে।’
যেভাবে জব্দ হলো এই বিশাল পরিমানের অর্থ
ডিজিটাল মুদ্রা লেনদেনকারী বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ‘টেথার’ জানিয়েছে, মার্কিন কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা দুটি ওয়ালেটে থাকা ৩৪৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ ফ্রিজ বা জব্দ করতে সহায়তা করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ব্লকচেইন বিশ্লেষকদের সহায়তায় তারা এই ওয়ালেটগুলোর সঙ্গে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) সরাসরি যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন।
নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ক্রিপ্টোনির্ভরতা
ক্রিপ্টো-অ্যানালাইসিস প্রতিষ্ঠান ‘চেইনালাইসিস’-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ইরানে ক্রিপ্টোকারেন্সি মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮০ কোটি ডলারে। এর বড় একটি অংশ আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় ইরান, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো রাষ্ট্রীয় খরচ মেটাতে ও অস্ত্র কিনতে ডিজিটাল মুদ্রাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
চীনের ওপরও খড়্গ
ইরানকে আর্থিকভাবে পঙ্গু করার অভিযানের অংশ হিসেবে শুক্রবার চীনের একটি তেল শোধনাগার বা রিফাইনারির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। ওই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ইরান থেকে কয়েকশ কোটি ডলারের তেল কেনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদিও ৩৪৪ মিলিয়ন ডলারের এই জব্দ ইরানের জন্য বড় ধাক্কা, তবে দীর্ঘ কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তেহরান হয়তো অন্য কোনো বিকল্প পথ খুঁজবে। আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো ড্যানিয়েল ট্যানেনবাউম বলেন, ‘ইরান বর্তমানে যেকোনো উপায়ে অস্ত্র ও সামরিক রসদ সংগ্রহের জন্য অর্থ জোগাড় করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।’





