হরমুজ প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি জাহাজ আটক, বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম

হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি | ছবি: সংগৃহীত
0

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি জাহাজ আটকের জেরে ফের বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এরইমধ্যে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ছাড়িয়েছে ১০৬ ডলার। একইসঙ্গে, জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত রাখার খেসারত দিচ্ছেন খোদ মার্কিনরাও।

ইরান সংশ্লিষ্ট জাহাজ বা ট্যাঙ্কার হরমুজ পারাপারের চেষ্টা করলেই দুর্ধর্ষ অভিযান চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। অবরোধের আওতায় জব্দ করছে একের পর এক জাহাজ। তল্লাশি চালিয়ে এসব জাহাজ নিজেদের কব্জায় রেখে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন অবরোধ ও জব্দের হুমকিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখন পর্যন্ত হরমুজ পার হয়েছে ৩০টির বেশি ইরানি জাহাজ।

শুধু তাই নয়, নিজেদের শক্তির জানান দিতে জাহাজ আটকের জন্য পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে আইআরজিসিও। সবশেষ ওয়াশিংটন একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দের জবাবে ভারতগামী গ্রিস ও পানামার পতাকাবাহী জাহাজ জব্দ করে ইরান। দুঃসাহসী সেই আটক অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করেছে তেহরান।

পাল্টাপাল্টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকের ঘটনায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনার পারদ পাড়ছে। হুমকি ও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুট হরমুজ প্রণালী। এতে করে বিশ্ববাজারে ফের আকাশচুম্বী হচ্ছে জ্বালানি তেলের দাম। সামুদ্রিক পথে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাত তীব্র হওয়ায় শুক্রবার ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০৬ ডলার ছাড়িয়েছে। যা বুধবারের সমাপনী মূল্যের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি।

আরও পড়ুন:

ইরানি বন্দরের ওপর মার্কিন অবরোধের জেরে হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনা খেসারত দিচ্ছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রও। দরপতনে কবলে মার্কিন শেয়ার বাজার। এসঅ্যান্ডপি ফাইভ হান্ড্রেডের সূচক কমেছে ০.৪১ শতাংশ। এমনকি ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে ঊর্ধ্বমুখী গ্যাসের দাম।

পরিসংখ্যান তথ্য বলছে, যুদ্ধের আগের তুলনায় গ্যাসের জন্য বর্তমানে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে মার্কিনদের। যা ১৯৬৭ সালের পর সর্বোচ্চ। এমনকি গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ৬৯ শতাংশ বা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মার্কিন নাগরিক উদ্বিগ্ন। ক্ষোভ বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর। এরপরও চুক্তি না করা পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ অব্যাহত রাখার হুমকি থেকে সরে আসছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যার কারণ যুদ্ধবিরতিতে জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে গোটা বিশ্ব।

ইএ