ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার (আইএমও) পাশাপাশি ৪৯টি দেশকে নিয়ে অনুষ্ঠিত ভিডিও সম্মেলনের পর স্টারমার বলেন, ‘কৌশলগত এ জলপথটি সুরক্ষিত করতে সামরিক পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।’
স্টারমার বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি, ফ্রান্সের সঙ্গে মিলে যুক্তরাজ্য পরিস্থিতি অনুকূল হলেই নৌচলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় একটি বহুজাতিক মিশনের নেতৃত্ব দেবে।’ তিনি অভিযানটিকে ‘কঠোরভাবে শান্তিপূর্ণ ও আত্মরক্ষামূলক’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এ মিশনের লক্ষ্য হবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আশ্বস্ততা ফিরিয়ে আনা এবং মাইন অপসারণ কাজে সহায়তা করা।’ বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্বার্থ রয়েছে—এমন দেশগুলোকে এতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
স্টারমার বলেন, ‘এক ডজনের বেশি দেশ ইতিমধ্যে সম্পদ দেয়ার প্রস্তুতি প্রকাশ করেছে। আগামী সপ্তাহে লন্ডনে একটি পরিকল্পনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।’
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এ জলপথ পুনরায় খুলে দেয়া নিশ্চিত করাই এই বৈঠকের লক্ষ্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এ পথ বন্ধ থাকার ফলে তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহসহ বৈশ্বিক বাজারে অত্যন্ত গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’
আরও পড়ুন:
ম্যাক্রোঁ ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও লেবাননকে জড়িয়ে যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে ‘আশাব্যঞ্জক’ বলে স্বাগত জানান। তবে তিনি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই হরমুজ প্রণালি পূর্ণাঙ্গভাবে, অবিলম্বে ও শর্তহীনভাবে পুনরায় খুলে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ধরনের বিধিনিষেধ কিংবা টোল ব্যবস্থা চালু করা বা প্রণালিকে বেসরকারীকরণের চেষ্টার বিরুদ্ধে দেশগুলো অবস্থান নিয়েছে।’
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস ব্যবহারের ২০ শতাংশ এ প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। এর সঙ্গে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও সারের গুরুত্বপূর্ণ চালান।’
তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা গোটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যই অপরিহার্য।’ তিনি জানান, পার্লামেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষে ইতালি প্রস্তাবিত মিশনে নৌবাহিনীর সম্পদ দিতে প্রস্তুত।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস বলেন, ‘অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘প্রণালি পুনরায় খোলার ক্ষেত্রে অবশ্যই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য টোলমুক্ত ও বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম যত দ্রুত সম্ভব কমিয়ে আনা আমাদের সবার স্বার্থেই জরুরি। এই যুদ্ধ যেন কোনোভাবেই ট্রান্সআটলান্টিক চাপ পরীক্ষায় পরিণত না হয়।’
ইরান শুক্রবার জানিয়েছে, ‘বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংগতি রেখে হরমুজ প্রণালি এখন বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুরোপুরি খুলে দেয়া হয়েছে; তবে একটি নির্ধারিত পথ ধরে চলাচল করতে হবে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান এ গুরুত্বপূর্ণ তেল চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২২ এপ্রিল শেষ হবে এবং একটি টেকসই শান্তির লক্ষ্যে শিগগিরই ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।





