ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বৈঠকের এক প্যানেলে তিনি বলেন, ‘জ্বালানির দামের উল্লম্ফন কেবল বরফখণ্ডের চূড়া।’
তিনি বলেন, ‘পুরো প্রভাব এক বা দুই মাসের মধ্যে আসবে। এই যুদ্ধের ফলে বড় অর্থনৈতিক প্রভাব দেখা যাবে।’
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে প্রাকৃতিক গ্যাস, সার ও হিলিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।
গত মার্চে কাতারের রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করেন আল কুওয়ারি। বিশ্বের মোট এলএনজি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই স্থাপনা থেকে আসে।
এছাড়া গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর যুদ্ধ বিস্তৃত হলে ওই স্থাপনায় আঘাত লাগে, যার ফলে বৈশ্বিক গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ও রপ্তানি পুরোপুরি পুনরুদ্ধারে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানান।
আল কুওয়ারি বলেন, ‘হিলিয়াম রপ্তানিও ঝুঁকিতে রয়েছে। কাতার বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ হিলিয়াম সরবরাহ করে, যা চিপ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত ঘাটতিতে রূপ নিতে পারে। কিছু দেশ পর্যাপ্ত জ্বালানি জোগান নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে পারে, আর সারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে খাদ্যসংকটের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।’
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথে বিঘ্ন অব্যাহত রয়েছে, যা জ্বালানি, শিল্প গ্যাস ও কৃষি উপকরণ বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।





