ভালো উদ্দেশ্য, তবু যুক্তরাষ্ট্রে আস্থা নেই ইরানের—গালিবাফের বার্তা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও  মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ | ছবি: সংগৃহীত
1

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে ৭১ সদস্যের ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আজ (শনিবার, ১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তুরুস্কের তুরকিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের ‘ভালো উদ্দেশ্য আছে, তবে আস্থা নেই’। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আগের আলোচনার সময় ইরান দুবার হামলার শিকার হয়েছে। যুদ্ধবিরতি, ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং অন্যান্য পূর্বশর্তে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হলেই তবেই আলোচনা এগোবে।’

ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গালিবাফ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের প্রস্থান-পূর্ব মন্তব্যের জবাব দেন। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি ওই মন্তব্য উদ্ধৃত করেছে।

গালিবাফ বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, আমেরিকানদের সঙ্গে আলোচনার আমাদের অভিজ্ঞতা সব সময়ই ব্যর্থতা ও চুক্তিভঙ্গের মধ্য দিয়ে গেছে। এক বছরেরও কম সময়ে দুইবার, আলোচনার মাঝখানে, ইরানি পক্ষের সদিচ্ছা সত্ত্বেও তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং বহু যুদ্ধাপরাধ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভালো উদ্দেশ্য আছে, তবে আমরা আস্থা রাখি না।’ তবে গালিবাফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিক হলে ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, ‘আসন্ন আলোচনায় মার্কিন পক্ষ যদি প্রকৃত চুক্তিতে পৌঁছাতে এবং ইরানি জনগণের অধিকার দিতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে তারা আমাদেরও চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রস্তুতি দেখতে পাবে।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আলোচনা যদি আন্তরিকতাহীন কোনো পদক্ষেপের আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তেহরান কঠোর জবাব দেবে।’

‘চলমান যুদ্ধে আমরা দেখিয়েছি, যদি তারা আলোচনাকে ব্যর্থ প্রদর্শনী ও প্রতারণার কাজে ব্যবহার করতে চায়, তাহলে আল্লাহর ওপর ভরসা করে এবং জনগণের শক্তির ওপর নির্ভর করে আমরা আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে প্রস্তুত’ বলেন গালিবাফ।

প্রতিনিধি দলের কাঠামো

ইসলামাবাদে তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ৭১ সদস্যের ইরানি প্রতিনিধি দলে মূল আলোচক দল, কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ কমিটি, গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রোটোকল ও নিরাপত্তা দল রয়েছে।

গালিবাফ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাজনৈতিক কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দোলনাসের হেম্মাতি অর্থনৈতিক কমিটির নেতৃত্বে, জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের সদস্য আলি আকবর আহমাদিয়ান সামরিক কমিটির নেতৃত্বে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি আইনগত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন।

অতিরিক্ত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পররাষ্ট্রনীতি উপসচিব আলি বাঘেরি কানি, সংসদ সদস্য সাইয়্যেদ মাহমুদ নবাভিয়ান, স্পিকারের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহকারী আবোলফাজল আমুই এবং স্পিকারের কৌশলগত উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মাদি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে আছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার। ইরানি দলের আগে তারা পাকিস্তানে পৌঁছে ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাসে অবস্থান করছেন।

তাসনিমের তথ্যমতে, প্রায় ৩০০ সদস্যের ওই মার্কিন দলে মূল আলোচক দল, উপদেষ্টা কমিটি এবং বড় ধরনের নিরাপত্তা ও প্রোটোকল দল রয়েছে।

পূর্বশর্ত সাপেক্ষে আলোচনা

ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে আলোচনা হওয়ার কথা। শনিবার দুপুরের আগে ইরানি প্রতিনিধি দলের পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাতের সূচি ছিল।

তাসনিমের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পূর্বশর্ত মেনে নিলে তবেই শনিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল।

তেহরান বলেছে, ওয়াশিংটন যদি লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার শর্ত মেনে নেয়, তবেই আলোচনা শুরু হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে বুধবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে পাকিস্তান, তুরস্ক, চীন, সৌদি আরব ও মিসরও ভূমিকা রেখেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা শুরুর ৪০ দিন পর এ যুদ্ধবিরতি হয়।

এএম