ডার্ক ইগল ক্ষেপণাস্ত্র কী?

শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ‘ডার্ক ইগল’
শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ‘ডার্ক ইগল’ | ছবি: এখন টিভি
0

বিশ্বজুড়ে সামরিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় এক বৈপ্লবিক সংযোজন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ‘ডার্ক ইগল’ (Dark Eagle Hypersonic Weapon)। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রটি মোতায়েন করার পর আন্তর্জাতিক মহলে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এটি মূলত একটি লং-রেঞ্জ হাইপারসোনিক উইপন (Long-Range Hypersonic Weapon), যা বিশ্বের যেকোনো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।

আরও পড়ুন:

কেন এটি এত ভয়ঙ্কর? (Why is it so lethal?)

‘ডার্ক ইগল’ কোনো সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নয়। এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর অবিশ্বাস্য গতি এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নিখুঁত ক্ষমতা।

অকল্পনীয় গতি (Unimaginable Speed): এটি শব্দের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি গতিতে (Mach 5+) ছুটতে পারে।

বিশাল পাল্লা (Long Range): ডার্ক ইগলের পাল্লা প্রায় ১,৭২৫ মাইল বা ২,৭৭৬ কিলোমিটার। কয়েক হাজার মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তু এটি মাত্র কয়েক মিনিটে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম।

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি (Bypassing Air Defense): সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ আগে থেকে অনুমান করা গেলেও ডার্ক ইগল বায়ুমণ্ডলে নিজের গতিপথ পরিবর্তন বা ম্যানুভার (Maneuverability) করতে পারে। ফলে শত্রুপক্ষের বর্তমান কোনো রাডার বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (Air Defense System) পক্ষে একে মাঝপথে ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব।

আরও পড়ুন:

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির লড়াই (Power Struggle in Indo-Pacific)

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে (Indo-Pacific Region) ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ক্ষেপণাস্ত্রটির গুরুত্ব অনেক। মূলত রাশিয়া ও চীনের হাইপারসোনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিতেই যুক্তরাষ্ট্র এই মারণাস্ত্র তৈরি করেছে। এটি বুস্টার রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর একটি ‘কমন হাইপারসোনিক গ্লাইড বডি’ (Common Hypersonic Glide Body) বহন করে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধাবিত হয়, যা যুদ্ধের মোড় মুহূর্তেই ঘুরিয়ে দিতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ডার্ক ইগল মোতায়েন করার ফলে প্রতিপক্ষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অনেক কমে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অস্ত্র ২০২৬ |ছবি : সংগৃহীত

একনজরে ডার্ক ইগল ক্ষেপণাস্ত্র (Dark Eagle at a Glance)

বৈশিষ্ট্য (Feature) বিবরণ (Description)
নাম ডার্ক ইগল (Long-Range Hypersonic Weapon)
ধরন লং-রেঞ্জ হাইপারসোনিক উইপন (LRHW)
সর্বোচ্চ গতি শব্দের গতির ৫ গুণ (ঘণ্টায় প্রায় ৩৮০০ মাইলের বেশি)
আক্রমণ সীমা (Range) ১৭২৫ মাইল / ২৭৭৬ কিলোমিটার
তৈরি করেছে লকহিড মার্টিন ও মার্কিন সেনাবাহিনী
বিশেষ সক্ষমতা মাঝ আকাশে গতিপথ পরিবর্তন ও রাডার ফাঁকি

আরও পড়ুন:

ডার্ক ইগল ক্ষেপণাস্ত্র: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর-FAQ

প্রশ্ন: ডার্ক ইগল ক্ষেপণাস্ত্র আসলে কী? (What exactly is the Dark Eagle missile?)

উত্তর: ডার্ক ইগল হলো মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক লং-রেঞ্জ হাইপারসোনিক উইপন (LRHW)। এটি এমন এক ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র যা শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এবং মাঝ আকাশে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে।

প্রশ্ন: ডার্ক ইগল ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ও পাল্লা কত? (What is the speed and range of Dark Eagle?)

উত্তর: ডার্ক ইগল শব্দের গতির চেয়ে অন্তত ৫ গুণ বেশি বা ঘণ্টায় প্রায় ৩৮০০ মাইলের বেশি বেগে ছুটতে পারে। এর পাল্লা বা রেঞ্জ হলো প্রায় ১,৭২৫ মাইল (২৭৭৬ কিলোমিটার)। অর্থাৎ এটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাজার মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম।

প্রশ্ন: কেন ডার্ক ইগলকে রাডার শনাক্ত করতে পারে না? (Why can't radar detect Dark Eagle?)

উত্তর: এর প্রধান কারণ হলো এর অবিশ্বাস্য গতি এবং গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা। প্রচলিত ব্যালিস্টিক মিসাইল একটি নির্দিষ্ট পথে চলে, কিন্তু ডার্ক ইগল লক্ষ্যবস্তুর দিকে এঁকেবেঁকে অগ্রসর হতে পারে। ফলে শত্রুপক্ষের রাডার একে ট্র্যাক করতে পারে না এবং কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একে মাঝপথে আটকাতে পারে না।

প্রশ্ন: ডার্ক ইগল প্রথম কোথায় মোতায়েন করা হয়েছে? (Where was Dark Eagle first deployed?)

উত্তর: যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে। মূলত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক মহড়া এবং মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন: কেন যুক্তরাষ্ট্র এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে? (Why did the US develop this missile?)

উত্তর: মূলত হাইপারসোনিক প্রযুক্তিতে রাশিয়া (Zircon) ও চীন (DF-17) এর সাথে পাল্লা দিতে এবং রণক্ষেত্রে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ডার্ক ইগল তৈরি করেছে। এটি এমন এক মারণাস্ত্র যা প্রতিপক্ষকে পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কোনো সময়ই দেয় না।

এসআর