Recent event

এপস্টেইন ফাইল কী; এই ভয়ংকর ফাইলের যেসব তথ্য জানলে শিউরে উঠবেন

এপস্টেইন ফাইল
এপস্টেইন ফাইল | ছবি: সংগৃহিত
0

বিশ্বজুড়ে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম ‘এপস্টেইন ফাইল’। বিশ্ব রাজনীতির শীর্ষ নেতা, রাজপরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের মহাতারকা—কার নাম নেই এই তালিকায়! মার্কিন ধনকুবের জেফ্রি এপস্টেইন (Jeffrey Epstein) এবং তার সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের দীর্ঘ তদন্তের পর আদালতের নির্দেশে প্রকাশিত হাজার হাজার পৃষ্ঠার এই নথি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই ফাইলগুলো কেবল কিছু নাম নয়, বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক শিশু পাচার ও যৌন শোষণ চক্রের (Child Trafficking and Sexual Exploitation Network) প্রমাণ।

একনজরে এপস্টেইন ফাইল ও এর প্রভাব
বিষয় (Topic) বিস্তারিত তথ্য (Details)
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু জেফ্রি এপস্টেইন ও তার সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েল।
ফাইল প্রকাশের উৎস ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের মামলার নথিপত্র।
আলোচিত এলাকা লিটল সেন্ট জেমস আইল্যান্ড (পাপের দ্বীপ)।
গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ব্যক্তিগত বিমান 'ললিটা এক্সপ্রেস'-এর যাত্রী তালিকা বা ফ্লাইট লগ।

আরও পড়ুন:

এপস্টেইন ফাইল কী?

এপস্টেইন ফাইল (Epstein Files) হলো মার্কিন ধনকুবের এবং দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন-এর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে সংগৃহীত হাজার হাজার পৃষ্ঠার আইনি নথিপত্র। এপস্টেইন ফাইল হলো মূলত মার্কিন বিচার বিভাগ (Department of Justice) এবং এফবিআই-এর সংগৃহীত আইনি নথিপত্র, ইমেল, ছবি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দির একটি বিশাল সংকলন। এটি মূলত একটি আন্তর্জাতিক শিশু পাচার ও যৌন শোষণ চক্রের (Child Trafficking and Sexual Exploitation Ring) দালিলিক প্রমাণ।

কেন এটি বিশ্বব্যাপী এত আলোচিত?

এই ফাইলটি আলোচিত হওয়ার মূল কারণ হলো এতে থাকা নামের তালিকা। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, রাজপরিবারের সদস্য এবং ধনকুবেরদের নাম এই অপরাধচক্রের সাথে জড়িয়ে আছে। এটি প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে এলিট সমাজ (Elite Society) কতটা ভয়াবহ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এর প্রভাব ও বিতর্ক (Impact and Controversy) বর্তমানে তুঙ্গে।

‘এপস্টেইন ফাইলস’-এ আসলে কী আছে?

ফাইলগুলোতে পাওয়া গেছে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’ (Little St. James), যা ‘পাপের দ্বীপ’ (Island of Sin) হিসেবে পরিচিত, সেখানকার রোমহর্ষক বর্ণনা। এছাড়া এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমান ‘ললিটা এক্সপ্রেস’ (Lolita Express)-এর ফ্লাইট লগ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে কারা নিয়মিত সেই দ্বীপে যাতায়াত করতেন। ভুক্তভোগী নারীদের জবানবন্দিতে (Victim Testimonies) উঠে এসেছে অবর্ণনীয় নির্যাতনের চিত্র।

আরও পড়ুন:

তালিকায় থাকা বড় বড় নামগুলো

এই নথিতে নাম আসা ব্যক্তিদের সবাই অপরাধী না হলেও, তাদের সংশ্লিষ্টতা জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু নাম হলো:

  • সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Clinton and Trump in Epstein List)।
  • ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রু (Prince Andrew Controversy)।
  • প্রযুক্তি খাতের বিল গেটস এবং ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিদের সঙ্গে ই-মেইল বা সাক্ষাতের প্রসঙ্গ।
  • হলিউড ও বিনোদন জগতের নামিদামি সব তারকা।

ব্ল্যাকমেইল ষড়যন্ত্র ও ভিডিও রেকর্ড

সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো এপস্টেইনের ব্ল্যাকমেইল ষড়যন্ত্র (Blackmail Conspiracy)। অভিযোগ রয়েছে যে, এপস্টেইন তার দ্বীপে আসা ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের যৌন কর্মকাণ্ড গোপন ক্যামেরায় রেকর্ড করে রাখতেন। পরবর্তীতে এই ভিডিওগুলো দিয়েই তিনি বিশ্বনেতাদের ব্ল্যাকমেইল করতেন বলে ধারণা করা হয়।

একনজরে এপস্টেইন ফাইল: মূল তথ্য ও বিতর্ক
বিষয় (Topic) বিবরণ (Description)
ফাইলটির আকার হাজার হাজার পৃষ্ঠার আইনি নথি ও ডিজিটাল ডাটা।
মূল অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টেইন ও গিলেইন ম্যাক্সওয়েল।
সংশ্লিষ্ট এলাকা ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডস (লিটল সেন্ট জেমস)।
মূল অভিযোগসমূহ যৌন পাচার, ষড়যন্ত্র এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের শোষণ।
বর্তমান অবস্থা আদালতের নির্দেশে পর্যায়ক্রমে তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।

এপস্টেইন ফাইল প্রকাশ: ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথিতে ট্রাম্পের নাম ও নতুন বিতর্ক

এপস্টেইনের অপরাধ ও রহস্যময় মৃত্যু (Crime and Mysterious Death)

জেফ্রি এপস্টেইনের অপরাধের ইতিহাস ২০০৮ সাল থেকে শুরু হলেও ২০১৯ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের দিয়ে যৌন ব্যবসার নেটওয়ার্ক (Sex Trafficking Network) চালানোর অভিযোগে তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার হন। তবে বিচারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় কারাগারে তার রহস্যজনক মৃত্যু (Mysterious Death) হয়, যা নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে। উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ ইমেল ও নথিই এখন ‘এপস্টেইন ফাইলস’ (Epstein Files) নামে পরিচিত।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতা ও হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা (Trump's Involvement & Explanation)

প্রকাশিত নথিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নাম আসায় বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০১১ সালের একটি ইমেইলে দেখা যায়, এপস্টেইন তার সহযোগী গিসলাইন ম্যাক্সওয়েলকে (Ghislaine Maxwell) লিখেছেন যে জনৈক ভিকটিম ট্রাম্পের বাড়িতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে ওই ভিকটিম হলেন ভার্জিনিয়া গিফ্রে (Virginia Giuffre)।

তবে মজার ব্যাপার হলো, খোদ ভার্জিনিয়া গিফ্রে নিজেই মৃত্যুর আগে জানিয়েছিলেন যে তিনি ট্রাম্পকে কোনো অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হতে দেখেননি। ট্রাম্পও দাবি করেছেন, ২০০৮ সালে এপস্টেইন প্রথমবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই তিনি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত কোনো নথিতেই ট্রাম্পের সরাসরি অন্যায়ের প্রমাণ (Evidence of Wrongdoing) পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:

এসআর