হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ, তেল উৎপাদন কমাল কুয়েত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজ | ছবি: তুর্কিয়ে টুডে
0

মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল উৎপাদন কমানো শুরু করেছে ওপেকের পঞ্চম বৃহত্তম উৎপাদক কুয়েত। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ২৬ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে।

রাষ্ট্রায়ত্ত কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) গতকাল (শনিবার, ৭ মার্চ) জানায়, প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে ইরানের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তেলক্ষেত্র ও শোধনাগারে উৎপাদন কমানো হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নয়ন অনুযায়ী উৎপাদনের মাত্রা পর্যালোচনা করা হবে বলে জানানো হয়।

ব্লুমবার্গের উদ্ধৃত একটি সূত্র জানায়, গতকাল (শনিবার, ৭ মার্চ) ভোররাতে দৈনিক প্রায় এক লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমানো হয়, যা আজ (রোববার, ৮ মার্চ) প্রায় তিন গুণে পৌঁছাতে পারে। সংরক্ষণ সক্ষমতা ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আরও কাটছাঁট হতে পারে।

কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এশিয়ায় ন্যাফথার বড় রপ্তানিকারক এবং উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে জেট ফুয়েলের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। ন্যাফথা পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডনক) জানায়, প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচল থমকে পড়ায় সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার জন্য তারা অফশোর উৎপাদন সমন্বয় করছে। তবে নির্দিষ্ট পরিমাণ জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরান হামলার পর অঞ্চলজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে এই বিঘ্ন দেখা দেয়। তেহরান ইসরাইলে এবং কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে হামলা চালায়।

আরও পড়ুন:

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটগুলোর একটি হরমুজ প্রণালিতে অননুমোদিত প্রবেশ নিষিদ্ধ করার পর জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। সামুদ্রিক বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোও ওই এলাকায় চলাচলকারী জাহাজের জন্য যুদ্ধঝুঁকি বীমা প্রত্যাহার করে নেয়।

এর আগে ইরানি ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব দৈনিক ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল সক্ষমতার ‘রাস তানুরা’ শোধনাগার বন্ধ করে দেয়।

ইরাকও ‘রুমাইলা’ ও ‘পশ্চিম কুর্না-২’ সহ বড় তেলক্ষেত্রে উৎপাদন কমানো শুরু করে, এতে দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি উৎপাদন বন্ধ হয়। উত্তর ইরাকে তুরস্কের জেইহান বন্দরে পাইপলাইনের মাধ্যমে রপ্তানি হওয়া ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদনও স্থগিত করা হয়েছে, যেখান দিয়ে ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক প্রায় ২ লাখ ব্যারেল তেল পাঠানো হয়েছিল।

অঞ্চলজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের মধ্যে এ সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠেছে, যা ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।

কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত কাতারএনার্জিও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনসহ অন্যান্য পেট্রোকেমিক্যাল ও শিল্পপণ্য উৎপাদন স্থগিত করেছে। এতে ইউরোপে গ্যাসের দাম ৬৭ শতাংশ বেড়ে ডাচ টিটিএফ হাবে মেগাওয়াট ঘণ্টাপ্রতি ৫৩ দশমিক ৩৮ ইউরো (৬২ ডলার) হয়েছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংসের তথ্যমতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানির বড় অংশই হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। সৌদি আরবের ৮৯ শতাংশ রপ্তানি এ পথ দিয়ে যায়। ইরান, কুয়েত ও কাতারের ১০০ শতাংশ, ইরাকের ৯৭ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৬৬ শতাংশ রপ্তানি এ রুটনির্ভর।

এএম