দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউজের মসনদে বসার ১২ মাসেই যুক্তরাষ্ট্রকে স্বর্ণযুগে নিয়ে যাওয়ার দাবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ক্যাপিটল হিলের স্টেট অব ইউনিয়নের ইতিহাসে মঙ্গলবার রাতে দেয়া দীর্ঘ ভাষণে এই দাবি করেন তিনি।
শুল্ক-নীতির মাধ্যমে মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙা করা এবং অভিবাসন নীতি ও বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ-বন্ধসহ নানা খাতে সফলতার ফুলঝুরি তুলে ধরে নিজেকে নিয়ে বেশ গর্ববোধও করেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিপরীতে অভিযোগের তীর ছোড়েন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেন শাসনামলের দিকে।
ট্রাম্পের এক ঘণ্টা ৪৭ মিনিটের এই ভাষণ ঘিরে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেক বিষয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবি করেছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনও। ট্রাম্প এক বছরে ১৮ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ নিশ্চিতের দাবি করলেও; হোয়াইট হাউজের বরাতেই মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির দেয়া তথ্য বলছে – আদতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৯ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার।
বাণিজ্য অংশীদাররা নতুন নীতির আওতায় শুল্ক পরিশোধ করছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। কিন্তু সিএনএনের দাবি, অর্থনীতি নিয়ে বেশিরভাগ তথ্যই অতিরঞ্জিত। সত্যিকার অর্থে শুল্ক-নীতির মাশুল গুনছে মার্কিন আমদানিকারক ও ভোক্তারাই। এমনকি কর্মসংস্থান বাড়ানোর দাবিও নাকি মিথ্যা। কারণ ২০২৫ সালের জানুয়ারির বেকারত্বের হার ৪ শতাংশ থাকলেও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তা বেড়ে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলেও দাবি গণমাধ্যমটির। ট্রাম্পের বেপরোয়া সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি ডেমোক্রেটদের।
ভার্জিনিয়ার গভর্নর অ্যাবিগেল স্প্যানবার্গার বলেন, আমরা আমাদের প্রেসিডেন্টের মুখ থেকে সত্য শুনতে পাইনি। তাই আসুন সততার সাথে কথা বলি। তাঁর বেপরোয়া বাণিজ্য নীতি আমেরিকান প্রতি পরিবারকে ১,৭০০ ডলারেরও বেশি শুল্ক খরচ দিতে বাধ্য করেছে। ছোট ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কেউ কেউ বাজার হারাচ্ছেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ১১ হাজার ৮শ'র বেশি খুনিকে অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিলেন বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন তাও মিথ্যা। কারণ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য বলছে, এই সংখ্যাটি কেবল বাইডেনের আমলেই নয়, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদসহ বহু দশক ধরে প্রবেশ করা সংখ্যা ছিলো। এমনকি ট্রাম্পের নির্দেশে অভিবাসন-বিরোধী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা-আইসিই দ্বারা দমন-পীড়নের বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কিত।
প্রথম ১০ মাসে ৮টি যুদ্ধ-বন্ধের দাবিকেও মিথ্যা বলছে সিএনএন। কারণ নীল নদের একটি উপনদীতে বাঁধ প্রকল্প নিয়ে মিশর এবং ইথিওপিয়ার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক বিরোধ ছিলো; যুদ্ধ নয়। এমনকি হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও গাজায় হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। কঙ্গো-রুয়ান্ডা এবং থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়াসহ কোথাও স্থায়ী শান্তি ফেরেনি।





