১৮৬০ এর দশকে মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেকজান্দ্রিয়ায় চালু হয় দ্বিতলবিশিষ্ট ট্রামের রামল লাইনটি। ট্রামের প্রশস্ত জানালা দিয়ে শহরের মনোরম দৃশ্য দেখার সুযোগ মিলত যাত্রীদের। দেড়শো বছরের বেশি পুরনো এ ট্রামওয়ে নেটওয়ার্ক মিশরের ঐতিহ্যের অংশ।
২০টি লাইন নিয়ে গঠিত ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ ট্র্যাকে স্টপেজ আছে ১৪০টি। যা আলেকজান্দ্রিয়া শহরের গণপরিবহনের অন্যতম অংশ। মাত্র পাঁচ মিশরীয় পাউন্ড দিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ভ্রমণ করতে পারছেন যাত্রীরা। দৈনিক প্রায় দশ হাজার যাত্রী পরিবহন করে এসব ট্রাম।
তবে শতাব্দী পুরনো একক ও দ্বিতলবিশিষ্ট ট্রামগুলোর শব্দ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যানজট কমানো, পুরনো অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটির সরকার। এরইমধ্যে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পুরনো লাইনগুলো ডিজিটালি নিয়ন্ত্রিত রেল ব্যবস্থায় প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এছাড়া, মিশরের সড়ক ও রেল নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন:
স্থপতি ও বিশেষজ্ঞ ইয়াসমিন কান্দিল বলেন, ‘শুধু রেলপথ প্রসস্তকরণ এবং দ্রুততর করা সবসময় সমাধান নয়। এটি ট্রামের উদ্দেশ্য এবং অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য হতে হবে। আলেকজান্দ্রিয়ার ভেতরে উচ্চ গতি, যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে এমন শহরে এটি উপযুক্ত হবে না। বরং শহরে প্রয়োজন এবং ছন্দের সঙ্গে মিল হতে হবে।’
ন্যাশনাল অথরিটি ফর টানেলসের দাবি, এসব সংস্কারের পর পরিবহনের গতি বাড়বে প্রায় দ্বিগুণ। এতে বাঁচবে সময়, যাত্রী ধারণক্ষমতাও বাড়বে কয়েকগুণ।
সরকারের এমন সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে বাসিন্দা ও ট্রাম পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের। পরিবহন খরচ বৃদ্ধিসহ যানজট বাড়ার আশঙ্কা তাদের। শহরের ঐতিহ্য ধ্বংসের অভিযোগও করেছেন অনেকে।
স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘এটি খুবই বেদনাদায়ক। ট্রাম আমার জীবনের অংশ হয়ে আছে। ৩০ বছর ধরে এ ট্রামের সঙ্গে যুক্ত।’
স্থানীয়দের আরেকজন বলেন, ‘সরকারের এমন সিদ্ধান্ত অনেকটা তারাহুড়ো করে নেয়া। বিকল্প উপায় খোঁজার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন ছিলো।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে যাত্রীদের জন্য বিকল্প খুঁজে বের করতে হবে। তাদের যেন ভোগান্তি না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে সরকারকে।
আলেকজান্দ্রিয়ার ইতিহাসের গবেষক ওয়ায়েল আজাব বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে বিরক্ত না করে ট্রামকে যেমন আছে তেমন রেখে দেয়ার জন্য প্রযুক্তিগত সমাধান আছে। এ বিষয়ে বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। ট্রাম থামার সময়, যাত্রীদের ওপর ট্রামের খরচ এবং প্রকল্পটি কতটুকু লাভজনক হবে তা চিন্তা করা। এছাড়া আলেকজান্দ্রিয়া শহরের ঐতিহ্যের কথাও মাথায় রাখতে হবে।’
৭০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেল নেটওয়ার্ক সংস্কার প্রকল্পে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক বরাদ্দ দিয়েছে সাড়ে ১৬ কোটি ডলার। এতে অর্থায়ন করছে ফ্রান্সের উন্নয়ন সংস্থাও।





