রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ এবং ইসরাইলি আগ্রাসনে জর্জরিত গাজাসহ পুরো বিশ্বেই পর্যায়ক্রমে শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউজের মসনদ নিশ্চিত করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরজন্য শুরু থেকেই শুল্ক হুমকিকে করেন প্রধান অস্ত্র। যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ-সংঘাত বন্ধ করে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার স্বপ্নেও বিভোর ছিলেন ট্রাম্প।
একবছরে ৮টি যুদ্ধ বন্ধ করেও, ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেল না পাওয়ায়, শান্তি নিয়ে আর ভাবতে বাধ্য নয় বলে, সম্প্রতি সাফ জানিয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন মার্কিন হামলা যার বড় প্রমাণ। তেল সমৃদ্ধ দেশটির প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে স্ত্রীসহ যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং শতাধিক নিহতের ঘটনায় হতবাক বিশ্ববাসী।
এর রেশ না কাটতেই ন্যাটোর সদস্যদেশ ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের বেপরোয়া সিদ্ধান্ত এবং অতিরিক্ত শুল্কারোপের হুমকিতে ফাটল ধরছে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে। মোট কথা, নিজের লক্ষ্য পূরণে শত্রু-মিত্র কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছেন না ট্রাম্প। এসবের মধ্য দিয়ে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অন্য যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ে, বিশ্ব ব্যবস্থাকে তিনি সবচেয়ে বেশি তছনছ করে দিচ্ছেন বলেও মনে করছেন সমালোচকরা। এমনকি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার এক বছরেই বিশ্ব-শৃঙ্খলাও ভেঙে দিয়েছেন বলে শিরোনাম হয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে।
এমন তীব্র সমালোচনার মুখে জোর করে গ্রিনল্যান্ড দখলের শঙ্কা উড়িয়ে দিলেও পৃথিবীর বৃহত্তম দীপটির মালিকানা পাওয়ার বাসনায় অনড় ট্রাম্প। তবে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ঝুঁকির শঙ্কা এখনই উড়িয়ে দিচ্ছেন না ডেনমার্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং সাবেক ন্যাটো প্রধান অ্যান্ডারস ফগ রাসমুসেন। ট্রাম্পকে তোষামোদ করার সময়ও ফুরিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন তিনি।
সাবেক ন্যাটো প্রধান ও ডেনমার্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডারসন ফগ রাসমুসেন বলেন, ‘আমি মনে করি ট্রাম্পবাদের বিরুদ্ধে ইউরোপের রুখে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। তোষামোদের সময় শেষ। এটা আর কাজ করবে না।’
আরও পড়ুন:
এ অবস্থায় কূটনৈতিকভাবেই গ্রিনল্যান্ড সংকট সমাধানের আহ্বান বর্তমান ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের।
ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুট বলেন, ‘অবশ্যই উত্তেজনা এখনও আছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। আবারও বলছি, আমি এ বিষয়ে খুব বেশি মন্তব্য করতে চাই না। তবে আমি বলতে পারি যে, এই সংকট মোকাবেলার একমাত্র উপায় হলো চিন্তাশীল কূটনীতি।’
এদিকে গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে পিস বোর্ড গঠন করেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ট্রাম্প। অকেজো উল্লেখ করে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন গাজা বোর্ড অব পিসকে। আর আপত্তি থাকা স্বত্বেও ট্রাম্প গঠিত বোর্ড অব পিসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামির নেতানিয়াহু যোগ দেবেন, এমন খবরে সমালোচনার ঝড় বইছে।
শুধু তাই নয়, ভেনেজুয়েলার পর মেক্সিকো ও কলম্বিয়াতেও সামরিক হস্তক্ষেপের চিন্তা করছেন বলে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। বিক্ষোভ চলাকালে ইরানের বর্তমাস শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও হামলার হুমকি দেন ট্রাম্প। কিছু হলেই বল প্রয়োগের হুমকি, বিতর্কিত পররাষ্ট্র নীতি, শুল্ক ও অভিবাসন নীতি সিদ্ধান্তে কেবল দেশের বাইরেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রেও ট্রাম্পকে নিয়ে চলছে তুমুল সমালোচনা।
সম্প্রতি, মিনিয়াপোলিসে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩৭ বছর বয়সী এক নারী অভিবাসী নিহতের ঘটনায় মার্কিন মুল্লুক জুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। বিক্ষোভের উত্তাপ দিন দিন বাড়লেও লোক দেখানো সহানুভূতি টুকোও দেখাচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন। উল্টো দমন-পীড়নের মাত্রা বাড়িয়েছ।





