স্পেনের দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩৯

0

স্পেনের করডোবা প্রদেশে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ৩৯ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আহত ১৭০ জনের মধ্যে ৩০ জনের অবস্থা গুরুতর। তবে হতাহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ফায়ার সার্ভিসের। দুর্ঘটনার জেরে প্রধান প্রধান রুটে উচ্চগতির রেলসেবা সোমবার পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজ।

স্পেনের জন্য এ এক দুঃস্বপ্নের রাত! ইউরোপের সবচেয়ে বড় দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কে ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। আতঙ্ক আর শোকে স্তব্ধ গোটা দেশ।

স্থানীয় সময় রোববার রাত পৌনে আটটা। করডোবার কাছাকাছি আদামুজ শহরের কাছে এসে লাইনচ্যুত হয় মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী তিনশো যাত্রীবাহী একটি দ্রুতগতির ট্রেন। ঢুকে পড়ে বিপরীত লাইনে এবং ধাক্কা দেয় উল্টো দিক অর্থাৎ মাদ্রিদ থেকে আসা আরেকটি যাত্রীবাহী ট্রেনে। প্রায় ২০০ যাত্রী নিয়ে লাইন ছেড়ে বের যায় বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রেনটিও। এই ধরনের ট্রেন সাধারণত ঘণ্টায় আড়াইশো কিলোমিটার বেগে চলে। ফলে সংঘর্ষ হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো কঠিন।

ঘটেছেও তাই সঙ্গে সঙ্গে দুমড়ে-মুছড়ে যায় দুই ট্রেনের বেশ কয়েকটি বগি। ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় বেশ কয়েকজনের। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সংঘর্ষের মুহূর্তে তাদের মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। আরও জানা গেছে, প্রথম ট্রেনের একটি বগি পুরোপুরি উল্টে যায়। এতে করে উদ্ধার অভিযান চালানো কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন করডোবা ফায়ার সার্ভিসের প্রধান। আশঙ্কা করা হচ্ছে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন:

দুর্ঘটনার জেরে মাদ্রিদ, সেভিয়া, করডোবা, মালাগা ও হুয়েলভা রুটের উচ্চগতির রেলসেবা অন্তত আগামী সোমবার পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ভুক্তভোগীদের পরিবার ও স্বজনদের সহায়তার এসব শহরের স্টেশনে রাখা হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা ও বসানো হয়েছে তথ্যকেন্দ্র।

মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার গভীর শোক জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজ। হতাহতদের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। আর এ মুহূর্তে উদ্ধার অভিযান ও আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির পরিবহন মন্ত্রী। ইমার্জেন্সি প্রোটোকল মানার পরেও কেন এমন দুর্ঘটনা ঘটলো তা অনুসন্ধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আইরিও রেল কোম্পানি।

যে ট্র্যাক থেকে প্রথম ট্রেনটি ছিটকে যায় তা সংস্কার করা হয়েছিল গেল মে মাসে। আর অপর লাইনটিও বসানো হয়েছে মাত্র চার বছর আগে। কাজেই কী কারণে ট্রেনটি লাইন চ্যুত হল তার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। স্পেনের উচ্চগতির এই রেল নেটওয়ার্ক ইউরোপের মধ্য সবচেয়ে বড়। ৩ হাজার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ নেটওয়ার্কে বছরে চলাচল করেন আড়াই কোটিরও বেশি যাত্রী।

এফএস