দুই বছরের বেশি সময় পর স্কুলে ফিরতে পেরে আনন্দিত গাজার শিশুরা

যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থার মধ্যেও স্কুলে যাচ্ছে গাজার শিশুরা
যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থার মধ্যেও স্কুলে যাচ্ছে গাজার শিশুরা | ছবি: সংগৃহীত
0

গাজার উত্তরাঞ্চলে ধ্বংসস্তূপের ওপর গড়ে ওঠা একটি অস্থায়ী তাঁবুর স্কুলে প্রায় ৪০০ শিশু পড়ছে। শীত, অপ্রতুল ব্যবস্থা এবং কাছাকাছি গুলির শব্দের মধ্যেও দুই বছরের বেশি সময় পর স্কুলে ফিরতে পেরে শিশুরা আনন্দিত। যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরাইল গাজার অর্ধেকের বেশি এলাকা দখলে রেখেছে। ফলে ২০ লাখের বেশি মানুষ অল্প জায়গায় তাঁবু ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে থাকতে বাধ্য হয়েছে।

কনকনে শীতে একটি তাঁবুর মেঝেতে বসেই তার ক্লাস চলে। ইসরাইল-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে এক হাজার মিটারেরও কম দূরে নিয়মিত গুলির শব্দ ও বিস্ফোরণে মাঝেমধ্যেই ব্যাহত হয় পাঠদান। তবু সাত বছর বয়সী তৌলিন আল-হিন্দি খুশি, দুই বছরের বেশি সময়ের যুদ্ধের পর অবশেষে সে আবার স্কুলে যেতে পারছে।

উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া এলাকায় ধ্বংসস্তূপের ওপর নীল প্লাস্টিকের তাঁবুতে গড়ে ওঠা অস্থায়ী নর্থ এডুকেশনাল স্কুল-এ পড়ছে প্রায় ৪০০ শিশু। স্কুলটি ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন তথাকথিত ইয়েলো লাইনের চোখের সামনেই অবস্থিত।

একটি ছোট তাঁবুর ভেতরে দুটি সারিতে করে মেঝেতে বসে আছে এক ডজনের বেশি মেয়ে শিশু। গায়ে সোয়েটার ও মোটা জ্যাকেট, আর সামনে খাতা রাখা আছে কয়েকটি কাঠের বাক্সের ওপর। শিক্ষক যখন ব্ল্যাকবোর্ডে লিখছেন, তখন তারা আনন্দের সঙ্গে সংখ্যা গুনছে।

এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা চেয়ারে বসতে পারি না, তবু আল্লাহর শোকর যে আমরা স্কুলে আসতে পারছি। যুদ্ধের সময় কোনো স্কুল ছিল না, আমরা খুব বিরক্ত হয়ে যেতাম। আমরা চাই স্কুলগুলো খোলা থাক।’

তৌলিনের মা ইয়াসমিন আল-আজৌরি বলেন, ‘মেয়েটি স্কুলে যাওয়ার পর থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকেন। আমি ওকে বলি, সাবধানে থেকো, দেয়ালের পাশে আশ্রয় নেবে, রাস্তায় দ্রুত চলবে।’

অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইল এখনো গাজা উপত্যকার অর্ধেকের বেশি এলাকা দখলে রেখেছে। বেসামরিক লোকজনকে অন্য এলাকায় যেতে বাধা দিচ্ছে। ইসরাইলি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের প্রায় সব ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর বসবাসকারীদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে ২০ লাখেরও বেশি মানুষের প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী গাজার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় ঠাসাঠাসি করে থাকতে বাধ্য হয়েছে। অধিকাংশই অস্থায়ী তাঁবু বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে অবস্থান নিয়েছে। কোনো রকমে জীবনযাপন করছে বহু গাজাবাসী।

যদিও বড় ধরনের যুদ্ধ বন্ধ থাকলেও, ইসরাইল নিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। অক্টোবরের চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪৪০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ইসরাইলি বাহিনী কিছু হলুদ কংক্রিটের চিহ্ন পশ্চিম দিকে সরিয়ে দিচ্ছে। ফলে দখলমুক্ত এলাকায়ও তারা ঢুকে পড়ছে। ইসরাইল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলী হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

এএইচ