ইরানে বাড়ছে বিক্ষোভ, বিভিন্ন দেশের প্রবাসী ইরানিদের সংহতি

ইরানে বিক্ষোভ
ইরানে বিক্ষোভ | ছবি: সংগৃহীত
0

চলমান সহিংস আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসী ইরানিরা। বিক্ষোভের মুখে ইরানের থাকা পরিবার নিয়ে শঙ্কায় তারা। খামেনির শাসন ব্যবস্থার অবসান চান প্রবাসীরাও। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনীতি নিয়ে ইরানিদের ক্ষোভ ও হতাশা বিক্ষোভকে আরও উস্কে দিয়েছে।

মুদ্রার ধস ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উৎখাত এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসানের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে হাজারো মানুষ। দুর্বল ব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে দেশটিতে বেড়েছে বেকারত্ব লম্বা হয়েছে দরিদ্রের সারি। এর ফলে বেড়েছে জন অসন্তোষ।

ইরানের চলমান আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়েছে প্রবাসে থাকা ইরানিরা। যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের সামনে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে শত শত ইরানি আমেরিকান। অবিরাম বৃষ্টি ও তীব্র শীতের মধ্যেও ইরানের পতাকা, প্ল্যাকার্ড হাতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তারা। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চেয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

আরও পড়ুন:

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে আন্দোলনকারীদের সমর্থনে বিক্ষোভ করেছে ইরানি নারীরা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ডাউনিং স্টিটের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেয় শতাধিক মানুষ। পরে মিছিল নিয়ে যুক্তরাজ্যের ইরানি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করে তারা।

ফ্রান্সের প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভ করেছে ৫ শতাধিক মানুষ। এ সময় তারা বিশাল মিছিল বের করে। বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইরানি বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানান তারা।

ইরানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে। পতাকা ব্যানার হাতে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ উৎখাতে আন্তর্জাতিক সমর্থনের আহ্বান জানান ইরানি প্রবাসীরা। জার্মানির বার্লিন শহরে বিক্ষোভে নেমেছে দেশটিতে বসবাসকারী ইরানি জনগণ। ইউরোপকে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেয়ার দাবি জানান তারা।

এদিকে, বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইরানি কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করতে বাধা দেয় তুর্কি পুলিশ। পরে তারা দূতাবাস থেকে কিছুটা দূরে একটি কফি শপে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সেখানেও তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে সাময়িকভাবে আন্দোলন কিছুটা দমাতে পারলেও, এই সংকট থেকে সহজেই মুক্তি পাবে না ইরান সরকার। মুদ্রাস্ফীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনগণের হতাশা এখন ক্ষোভে পরিণত হয়েছে।

তবে এমন সহিংস আন্দোলনের পরও দমে যেতে রাজি না ইরান সরকার। আন্দোলনের পেছনে বিদেশি শক্তির ভূমিকার সমালোচনা করে বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইএ