তুরস্কে পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ, ইস্তাম্বুলের মেয়রের গ্রেপ্তারে উত্তেজনা

বিদেশে এখন
0

ইস্তাম্বুলের মেয়রকে গ্রেপ্তার আর কারাদণ্ডের প্রতিবাদে পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভে উত্তাল তুরস্ক। রোববার (২৩ মার্চ) বিক্ষোভের এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এদিকে, তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির দাবি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই মেয়র একরেম ইমামোলুকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে এরদোয়ান প্রশাসন।

জলকামান, টিয়ার গ্যাস, পিপার স্প্রে কিংবা লাঠিসোঁটা আঘাত, কোনোকিছুই দমিয়ে রাখতে পারছে না এরদোয়ানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের। রোববার ইস্তাম্বুলের মেয়র ইমামোলুর গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ডাদেশের প্রতিবাদে বিক্ষোভ র‌্যালিতে অংশ নেয় হাজার হাজার মানুষ। এসময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসময় বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ র‌্যালিতে হামলা চালিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, রাজধানী আঙ্কারার মূল সড়কেই সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নামেন তুরস্কের সাধারণ মানুষ। হাতে লাল ফুল নিয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে একাত্মতা প্রকাশ করেন তারা। এসময় জলকামান ছুড়ে পুলিশ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। একঘণ্টা ধরে তাদের ওপর জলকামান ছোড়া হয়। বিক্ষোভকারীরা মাস্ক পড়ে, ছাতা নিয়ে, কার্ড বোর্ড ব্যবহার করে নিজেদেরকে রক্ষার চেষ্টা করে।

এদিকে, ইস্তাম্বুলে পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভে জড়ো হওয়া তুরস্কের সাধারণ মানুষের উদ্দেশে কথা বলেন প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির নেতা ওজগুর ওজেল। তার দাবি, একরেম ইমামোলুকে গ্রেপ্তার আর কারাদণ্ড দিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। ইমামোলুর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, সন্ত্রাসী সংগঠন পরিচালনা, দুর্নীতি, ঘুষ নেয়াসহ আরো অনেক অভিযোগ, যা সবই মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি।

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার কথা ছিল তার।

রিপাবলিকান পিপলস পার্টির নেতা ওজগুর ওজেল বলেন, ‘ইস্তাম্বুলের মেয়রকে চারদিন কারাগারে রেখে আদালতে পাঠানো হবে অথচ তুরস্কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। ইমামোলুকে সিলিভ্রি কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। যেখানে তুরস্কের মানুষ তাকেই নির্বাচিত করতো। দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ক্যু এর চেষ্টা হচ্ছিলো। যদি টিয়ার গ্যাস আর ব্যারিকেডের ভয়ে ঘরে লুকিয়ে থাকেন, এরদোয়ানের বিশ্বস্ত কেউ এই ভবনের দায়িত্বে থাকবে।’

রোববার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী একরেম ইমামোলুকে দুর্নীতির দায়ে গ্রেপ্তার করে তুরস্কের একটি আদালত।

এমন একদিনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যেদিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন পাওয়ার কথা ছিল তার দল। তাকে কারাগারে পাঠানোর এরদোয়ানের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন ইউরোপীয় নেতারাও।

এর প্রতিবাদে দেশটিতে চলছে গেল এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। প্রায় ২০ বছর ধরে প্রেসিডেন্ট আর প্রধানমন্ত্রীর পদ আঁকড়ে ধরে রাখা এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইমামোলু।

ইএ