মরদেহ হস্তান্তরের পরই ৬ শতাধিক ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিলো ইসরাইল

বিদেশে এখন
0

হামাস চার ইসরাইলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তরের পরই ৬ শতাধিক ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো প্রথম ধাপের বিন্দিবিনিময়। ৬ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি আগামী পহেলা মার্চ শেষ হলেও, এখনো আলোর মুখ দেখেনি দ্বিতীয় ধাপের চুক্তি। এদিকে, ট্রাম্প বলছেন এ বিষয়ে ইসরাইলকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

গেল ১৯ জানুয়ারি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। তিনটি ধাপে বন্দিবিনিময় এবং যুদ্ধ বন্ধের শর্তও মেনে নেয় তারা। তবে দুই পক্ষের চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে বেশ কয়েকবার সংশয়ের মুখে পড়ে প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি চুক্তি।

অবশেষে নানা জল্পনা-কল্পনার পর ইসরাইলের কাছে ৪ জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করে হামাস। বিনিময়ে ৬ শতাধিক ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্ত করে ইসরাইল। আজ (বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরবেলায় অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় ফিলিস্তিনি বন্দিদের স্বাগত জানাতে জড়ো হন স্বজনেরা। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ওফের কারাগার থেকে বাসে করে জিম্মিদের নিয়ে আসা হয় সেখানে। তাদের দেখে উল্লাসে মেতে উঠেন সবাই। প্রিয়জনকে কাছে পেয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

যদিও গেল সপ্তাহেই তাদের মুক্ত করার কথা ছিল। তবে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জিম্মিদের হস্তান্তর বিষয়টিকে অপমানজনক হিসেবে বর্ণনা করে করে ইসরাইল। নতুন শর্ত জুড়ে দেয় কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ছাড়া জিম্মিদের মুক্তি দিলে ফিলিস্তিনিদের মুক্ত করবে ইসরাইল। অবশেষে হামাস সেই শর্তে রাজি হয়।

এদিকে, মরদেহ গ্রহণের পর পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা করছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। যদিও জিম্মিদের নাম-পরিচয় আগেই প্রকাশ করে হামাস। তাদের সবাইকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো প্রথম ধাপের বন্দিবিনিময়। এ সময়ের মধ্যে জীবিত ও মৃত মোট ৩৩ ইসরাইলি জিম্মির বদলে মুক্তি পেলো প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি। ৬ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হচ্ছে আগামী পহেলা মার্চ। শর্ত অনুযায়ী প্রথম ধাপের সফলতার পরই দ্বিতীয় ধাপ শুরু হওয়ার কথা। তবে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। বিষয়টি ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘হামাস ৪ জনের মরদেহ পাঠিয়েছে। হামাসের ধারণা মরদেহ পাঠিয়ে তারা খুব বড় কাজ করেছে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ছিল সব জিম্মিকে জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। এখন যুদ্ধবিরতি নিয়ে কী করতে হবে, সে বিষয়ে ইসরাইল ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা আসলে কী চায়।’

যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ের বন্দিবিনিময় মুক্তি পেয়েছে ৩৩ ইসরাইলি জিম্মি। এদের মধ্যে জীবিত ২৫ জন এবং মরদেহ ৮টি ইসরাইল মুক্তি দিয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯০০ ফিলিস্তিনি বন্দী ও আটক ব্যক্তিদের

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এক প্রতিবেদনে বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে গাজায় নির্মম আগ্রাসন চালিয়েছে ইসরাইল। নজিরবিহীনভাবে মানবিক দিকগুলো অবজ্ঞা করায় ইসরাইলের প্রতি নিন্দা জানানো হয়। গাজার এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হয় হামাসকেও।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভোলকার তুর্ক বলেন, ‘২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস হামলা চালিয়ে যে হত্যাকাণ্ড ও অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে তা চরম নিন্দনীয় কাজ। এর বিপরীতে ইসরাইল গাজায় যে ভয়াবহতা চালিয়েছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতিগুলো ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘন করেছে। এসব ঘটনা সমর্থনযোগ্য নয়।’

এদিকে ইসরাইলিরা অধিকৃত পশ্চিম তীরে তাদের আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। নূর শামস শরণার্থী শিবির ছেড়ে পালাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। গেল রোববার পশ্চিমতীরে ট্যাংক পাঠিয়ে শরণার্থী শিবিরে হামলার নির্দেশ দেয় ইসরাইল।

ইএ