মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামানোর পর এবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে তোড়জোর চালাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে গত বুধবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পরই সবুজ সংকেত পান তিনি। এর পর থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন ট্রাম্প।
আসছে সপ্তাহে এ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলতে সৌদি আরবে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ এক প্রতিনিধি দল। যেখানে থাকার কথা রয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, কূটনীতিবিদ কেইথ কেলগ, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকভসহ আরও অনেকে। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কারা থাকবে সে বিষয়ে এখনও কিছু স্পষ্ট করেনি মস্কো। আর এ বৈঠকে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানেরও ভূমিকা থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতনিধি দলের বৈঠকে ইউক্রেনের উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ দেয়া হয়েছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের। তবে কিয়েভ বলছে, এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কিছু জানায়নি।
সৌদি আরবে এ বৈঠকের পর রিয়াদে ট্রাম্প-পুতিনের সরাসরি আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যেখান থেকে আসতে পারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
এদিকে জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের বৈঠক নিয়ে কথা বলেছেন মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। আগামী ৩০ দিনের মধ্যেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে বলে জানান তারা।
মার্কিন কূটনীতিবিদ কেইথ কিলগ বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এই তিন বছর পুতিনকে কখনো বাইডেন ফোন করেনি। তবে ঘটনা হলো, মিত্র কিংবা প্রতিপক্ষ সবার সঙ্গেই কথা বলতে হবে। কেউ যদি মনে করে প্রতিপক্ষের সবাইকে মেরে ফেলে যুদ্ধ জয় করে ফেলবে,তবে এটা কোনদিনই সম্ভব নয়। অবশ্যই যুদ্ধ বন্ধে বিশদ পরিকল্পনা করতে হবে।’
রাশিয়া যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হলে দেশটির মিত্রদেরও চাপে রাখার কথা বলছেন এই মার্কিন কূটনীতিবিদ। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাস ও জ্বালানি তেল রপ্তানিতে নতুন নিষেধাজ্ঞার কবলে পরতে পারে মস্কো।
যুক্তরাষ্ট্র যখন ব্যস্ত ইউক্রেন ইস্যুতে পুতিনকে বশে আনতে তখন ফ্রান্সের প্যারিসে জরুরি বৈঠক ডেকেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। ইউক্রেন নিয়ে পরবর্তী পরিকল্পনার রূপরেখা সাজাতেই তাদের এ বৈঠক। যেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির।
এদিকে, যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে জার্মানির মিউনিখে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার মানুষ। ইউরোপীয় ইউনিয়েনে দ্রুত শান্তি ফেরানোর তাগিদ তাদের।