বিদেশে এখন

পুতিনের উত্তর কোরিয়ায় সফর নিয়ে পশ্চিমাদের দুশ্চিন্তা

দুই দশকেরও বেশি সময় পর পরমাণু শক্তিধর দেশ উত্তর কোরিয়া সফরে গেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। জমকালো আয়োজনে পুতিনকে স্বাগত জানাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। যুক্তরাষ্ট্র আর ন্যাটো বলছে, কোরিয় উপদ্বীপে শান্তি বিনষ্ট করতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষাকে সমর্থন করছে রাশিয়া। বিশ্লেষকরা বলছেন, পুতিনের এই সফরে অর্থনৈতিক আর সামরিকভাবে লাভবান হবে পিয়ংইয়ং।

ভ্লাদিমির পুতিনের আগমনে সাজ সাজ রব উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে। রাস্তাঘাট আর ভবন সাজানো হয়েছে রুশ প্রেসিডেন্টের পোস্টার দিয়ে। বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর পর পুতিনকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। বহু-মেরুকরণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় কিম কাজ করতে আগ্রহী রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। কর্মসূচিতে আছে দুই দেশের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টি। কঠিনভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা উত্তর কোরিয়াকে বরাবরই রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে মস্কো।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব এমনকি এশিয়াও বেশ উদ্বিগ্ন এই সফর নিয়ে। রাশিয়া এমন এক নেতাকে সমর্থন দিচ্ছে, যার দেশ একবিংশ শতাব্দীতে এসে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, অবৈধভাবে একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করবে দুই দেশ। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে পারে কৌশলগত অংশীদারী চুক্তি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ আর হুমকিকে গুরুত্ব না দেয়ায় কিমের প্রশংসা করেছেন পুতিন। গণমাধ্যমগুলো বলছে, উত্তর কোরিয়া আর রাশিয়ার সম্পর্ক উন্নয়ন বিপাকে ফেলবে ওয়াশিংটনকে।

গবেষকরা বলছেন, দুই দেশের অন্যতম সমস্যা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা। যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প কোন দেশ বহুমেরুকরণ বিশ্ব ব্যবস্থা গঠনে সহযোগিতা করবে, এমন প্রত্যাশা করেন তিনি। নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দুই দেশই সহযোগিতা করছে পরস্পরকে। তাই সম্পর্ক জোরদার হলে দুর্বল হবে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব।

ন্যাটো বলছে, উত্তর কোরিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্র আর পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কিত জ্ঞান দিতে পারে রাশিয়া। এজন্য শুধু এশিয়ার নয়, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে পুরো বিশ্ব। ন্যাটো মহাসচিবের অভিযোগ, উত্তর কোরিয়াও রাশিয়াকে অগণিত সমরাস্ত্র সরবরাহ করে যাচ্ছে, যা পুতিন প্রশাসন ব্যবহার করছে ইউক্রেনে যুদ্ধক্ষেত্রে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, এই সফর দীর্ঘায়িত করবে ইউক্রেন যুদ্ধ।

যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া থেকে ১০ হাজারের বেশি শিপিং কন্টেইনার এসেছে রাশিয়াতে। যেগুলোতে রয়েছে কয়েক লাখ সমরাস্ত্র। রাশিয়ার সমরাস্ত্রের মান এরচেয়ে ভালো হলেও যেহেতু ইউক্রেনকে পশ্চিমারা অস্ত্র দিচ্ছে, যুদ্ধক্ষেত্রে পিছিয়ে না পড়তেই পিয়ংইয়ং থেকে অস্ত্র নিয় মজুত বাড়িয়েছে রাশিয়া। বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা কবলিত উত্তর কোরিয়া পাচ্ছে খাদ্যপণ্যসহ প্রয়োজনীয় অনেক সামগ্রী। রাশিয়া সহযোগিতা করছে উত্তর কোরিয়াকে মহাকাশ গবেষণা, ক্ষেপণাস্ত্র আর পরমাণু প্রকল্প চালিয়ে যেতে।

এসএসএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর