বিদেশে এখন

সীমান্ত সংকট সমাধানে নজর দিতে চায় বিজেপি সরকার: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর এবার চীনের সঙ্গে সীমান্ত সংকট সমাধানে নজর দিতে চায় নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। পাকিস্তানের সাথেও সীমান্তের দু'পারে সন্ত্রাসবাদের পুরোনো ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছানো জরুরি। নতুন মেয়াদে দায়িত্ব নিয়ে এভাবেই প্রতিবেশিদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর।

রাষ্ট্রপতি ভবনে মোদির শপথ অনুষ্ঠানের চোখধাঁধানো আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক সাতটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা। এ মেয়াদেও ভারত সরকারের প্রতিবেশিদের অগ্রাধিকার দেয়ার নীতি নিয়ে চর্চা চলছে বেশ। কিন্তু সীমান্তবর্তী পাকিস্তান ও চীনের সমীকরণটা ভিন্ন।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে মোদিকে অভিনন্দন জানানোর মধ্য দিয়ে ভারতের সঙ্গে কূটনীতির বরফ গলানোর উদ্যোগ নেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও তার ভাই, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধে জড়িয়েছে দুই পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তান; যার মধ্যে দু'টিই ছিল বিতর্কিত কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। ২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ভারতীয় সেনাদের প্রাণহানির ঘটনায় পাকিস্তানভিত্তিক কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনে নয়া দিল্লি এবং পাকিস্তান সীমান্তের ভেতরে বিমান হামলা চালায়। তখন থেকে মুখ দেখাদেখিও বন্ধ দুই দেশের নেতাদের।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর বলেন, 'সীমান্তের দু'পাশে সন্ত্রাসী তৎপরতা বহু বছরের পুরোনো সমস্যা। এটি ভালো প্রতিবেশির নীতি হতে পারে না। পাকিস্তানের সঙ্গে এ সমস্যার সমাধান খুঁজতে চাই আমরা।'

অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পরাশক্তি চীনের সঙ্গে তিন হাজার ৮শ' কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে ভারতের। কড়া প্রহরায় যার বড় অংশেই সাধারণ মানুষের পা ফেলাও নিষেধ। সীমান্ত নিয়ে ১৯৬২ সালে যুদ্ধে জড়ায় দেশ দু'টি। গেল কয়েক বছরেও বেশ কয়েকবার সহিংসতায় জড়ায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষীরা। পাঁচ দশকের ভয়াবহতম সংঘাতে ২০২০ সালের জুলাই মাসে ভারতের কমপক্ষে ২০ এবং চীনের চার সেনা নিহতের পর থেকেই থমকে আছে দুই দেশের কূটনীতি।

তিনি আরও বলেন, 'সীমান্তে চীনের সঙ্গে আমাদের বেশ কিছু সমস্যা বিদ্যমান আছে। কীভাবে এসব সমস্যার সমাধান করা যায়, তাতেই নজর দেবো আমরা।'

টানা দুই মেয়াদে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেয়া ভারতের এই মন্ত্রী জানান, চীন-ভারতের পাশাপাশি আরেক প্রতিবেশি মালদ্বীপের সঙ্গেও সম্পর্কের উন্নয়ন চায় দিল্লি। মালদ্বীপের সঙ্গে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি সমুদ্রসীমা রয়েছে ভারতের। সামরিক উপস্থিতিসহ বেশ কিছু ইস্যুতে সম্প্রতি উত্তাপ দেখা দিয়েছিল দুই দেশের সম্পর্কে।

ইএ

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর