পরিবেশ ও জলবায়ু
বিদেশে এখন

বৃষ্টির ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় আমিরাতবাসী

নজিরবিহীন বৃষ্টি আর বন্যার তাণ্ডব শেষে জলাবদ্ধতা থেকে উদ্ধারের চেষ্টায় ব্যস্ত দুবাই। যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় নিত্যপণ্য সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। এরই মধ্যে দুঃসংবাদ আগামী সপ্তাহে আরও বেশি বৃষ্টির কবলে পড়তে পারে আমিরাতবাসী। এদিকে সাড়ে ১২শ' ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে লাখো যাত্রী।

২৪ ঘণ্টার কম সময়ে ২৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি। সাধারণত সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুরো বছরের গড় বৃষ্টির দ্বিগুণ যা এবার একদিনেই দেখেন দুবাইয়ের বাসিন্দারা।

বৃষ্টি থেমে গেলেও স্থবির শহর। ব্যস্ত শহরের দৈনন্দিন রূপে ছন্দপতন অব্যাহত থাকলেও বৃহস্পতিবার ( ১৮ এপ্রিল) থেকে চলছে বাসাবাড়ি, দোকানপাট, রাস্তাঘাটসহ ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামতের কাজ। জলাবদ্ধতায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় খালি দোকানপাট, দেখা দিয়েছে নিত্যপণ্যের তীব্র সংকট।

বাসিন্দাদের একজন বলেন, 'মাত্রই দোকান থেকে এসেছি। পণ্য সরবরাহে সমস্যা চলছে। দুবাইয়ে এর আগে কিছু বড় ঝড় দেখলেও এমন ভয়াবহ বৃষ্টি আমি আর দেখিনি। মনে হয়েছিল যেন ভিন গ্রহের বাসিন্দারা হামলা চালিয়েছে। টানা বজ্রপাত হয়ে গেছে। সারা জীবনে এমনটা দেখিনি আমি।'

পারস্য উপসাগরের মরু অঞ্চলেও বৃষ্টিপাত বিরল নয়। বরং বৃষ্টির আগে বার্তা দিয়ে জানিয়ে বাসিন্দাদের আগাম সতর্কও করে দেয় প্রশাসন। তবে চলতি সপ্তাহের প্রলয়ঙ্কারী বৃষ্টির জন্য প্রস্তুত ছিল না দুবাইয়ের আবহাওয়া বিভাগও। ৭৫ বছরের ভয়াবহ বৃষ্টির ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন বাসিন্দারা

আরেকজন বাসিন্দা বলেন, 'দুবাইয়ে আমার জন্ম, এখানেই বেড়ে উঠেছি। এই দেশে এরকম বৃষ্টি আমি আর কখনো দেখিনি। স্বাভাবিকভাবেই বেশ কঠিন সময় পার করছি। ভয়াবহ মাত্রায় বৃষ্টি হয়েছে।'

স্থানীয় আরেকজন বলেন, 'মাত্র দু'সপ্তাহ আগে নতুন বাসায় উঠেছি। এখনই এ অবস্থা। পানি চুঁইয়ে পড়ছে ওপর থেকে। এখন বাথরুমের পানি নিষ্কাশনের জায়গা থেকে ময়লা পানি বেরিয়ে আসছে, আরও বাড়ছে।'

১৯৪৯ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ এ বৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের অন্যতম কেন্দ্র দুবাই বিমানবন্দরে এখনও কাটেনি ফ্লাইটের জট। ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হওয়ায় দুবাই ও ঢাকা বিমানবন্দরে আটকে রয়েছেন কয়েক হাজার বাংলাদেশি যাত্রী।

গবেষকরা বলছেন, মানবসৃষ্ট কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বাড়ায় এমন চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির। সামনে তাপমাত্রা আরও বাড়লে বাড়বে আর্দ্রতা। যা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকিও বাড়াবে। আগামী মঙ্গলবারই আরও বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আমিরাতের আবহাওয়া বিভাগ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের জ্যেষ্ঠ পূর্বাভাস কর্মকর্তা ইসরা আলনাকবি বলেন, 'জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা তো থাকতেই পারে। তবে মনে রাখতে হবে এখন এপ্রিল মাস চলছে। বাতাসের চাপে দ্রুত পরিবর্তনের ফলে এ মাসে এ ধরনের চরম বা বিরল আবহাওয়া পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়।'

এদিকে আরব আমিরাত ও ওমানে চরম আবহাওয়ার রেশ কাটার আগেই ভারী বৃষ্টি ও বন্যার কবলে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে এরই মধ্যে ভেঙে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও কৃষি জমি।

ইএ

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর