রাশিয়া - ইউক্রেন, হামাস - ইসরাইল যুদ্ধে যেমন নিজের লাভ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তেমনি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দেশের স্বার্থে কাজে লাগানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন তিনি। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক ঘোষণা দেন, অ্যাপল কর্তৃপক্ষ কথা দিয়েছে, টেক জায়ান্টের উৎপাদন মেক্সিকো থেকে সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হবে। যেন, শুল্ক পরিশোধ না করতে হয়।
এই বৈঠকের পর অ্যাপল ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৪ বছরে ৫০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে এই প্রতিষ্ঠান। টেক্সাসে তৈরি হবে সার্ভারের নতুন কারখানা। কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে ২০ হাজার মানুষের। আমদানি পণ্যে ট্রাম্পের শুল্কারোপের হুমকির পর এই ঘোষণা দিলো অ্যাপল। চীনে শুল্কারোপ করলে দেশটিতে তৈরি আইফোনের দাম অনেক বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছিলেন অনেকে।
প্রতিশ্রুত ৫০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আইফোন, আইপ্যাড, অ্যাপল টিভি সার্ভিসের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তৈরিতে। গেলো মাসেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, চীন থেকে অ্যাপলের সরঞ্জাম কিনলে ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। মূলত এই শুল্ক চাপ এড়াতেই যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাপল।
এর আগে ২০১৮ সালে একই বিবৃতি দিয়েছিলো অ্যাপল, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে। কথা ছিল ৩৫ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগে ২০ হাজার মানুষের চাকরির ব্যবস্থা হবে। সেসময় শুল্কারোপের কথা বলা হলেও আইফোন তার বাইরে ছিল। নতুন প্রস্তাবের আওতায় ২০২৬ সালের মধ্যে টেক্সাসের হিউস্টনে নির্মাণাধীন অ্যাপলের নতুন কারখানা উদ্বোধন হবে। এই কারখানায় অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের কার্যক্রম পরিচালনায় থাকবে আলাদা ব্যবস্থা।
যদিও অ্যাপল জানায়, তাইওয়ানভিত্তিক মাল্টিন্যাশনাল প্রতিষ্ঠান ফক্সকনের সঙ্গে কাজ করবে তারা। সেখানে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের জন্য সার্ভার তৈরি হবে, যা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি হয়। এই ডেটা সেন্টারের পরিসর আরও বাড়াচ্ছে অ্যাপল। নর্থ ক্যারোলাইনা, আইওয়া, ওরেগন, অ্যারিজোনা আর নেভাদায় তৈরি হচ্ছে ডেটা সেন্টার। যুক্তরাষ্ট্র - চীন বৈরিতার কারণে অনেকদিন থেকেই চীনের বাইরে সরবরাহ ব্যবস্থা বাড়ানোর চেষ্টা করছে অ্যাপল।
তাইওয়ানের ফক্সকন এখন অ্যাপলের চিপ তৈরি করছে। সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠান অ্যারিজোনায় চিপ তৈরির প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে। ভারত আর ভিয়েতনামেও উৎপাদন বাড়িয়েছে অ্যাপল। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করলে আপাতত শুল্কের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে পারে অ্যাপল।