১৯৫০-এর দশকে রাশিয়ার বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয় বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো। ব্রেল গ্রিডের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিল বেলারুশ, রাশিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া। যার নিয়ন্ত্রণ ছিল মস্কোর হাতে। ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলের পর ইউরোপীয় গ্রিডের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পরিকল্পনা করে বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো।
যা গতি পায় ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর। রাশিয়া থেকে বিদ্যুৎ কেনা বন্ধ করে দেয় বাল্টিক তিন দেশ। এবার রুশ বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে নিজেদের পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে নিল তারা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই পদক্ষেপ নেয় দেশগুলো।
নিজেদের উৎপাদিত বিদ্যুতের ওপর দেশগুলো নির্ভরশীল থাকবে। এরপর তারা পোল্যান্ডের মাধ্যমে যুক্ত হবে ইউরোপীয় গ্রিডে। জ্বালানি ব্যবস্থার মাধ্যমে রাশিয়া এ অঞ্চলে যে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছিল, তা চিরতরে শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো।
এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিশাল বলেন, 'যেকোনো জরুরি অবস্থার জন্য নিজেদের প্রস্তুত রেখেছি। রাশিয়ার গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতেও আমরা প্রস্তুত। আপৎকালীন সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের পরিকল্পনা চলমান। এস্তোনিয়ার পূর্ব অংশে জ্বালানি মজুদ রয়েছে।'
লাটভিয়ার প্রেসিডেন্ট এডগার্স রিঙ্কেভিকস বলেন, 'রাশিয়ান গ্রিড থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বিদ্যুৎ ঘাটতি শিল্পের জন্য কিছু নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জের কারণ হবে। যা হোক, আমার বিশ্বাস ব্রেল গ্রিড থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও যাবতীয় ব্যবস্থায় আমরা টিকে থাকতে পারবো। ন্যাটো এবং ইইউর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। তবে সম্ভাব্য প্রভাব কয়েক বছর আগের মতো এত ক্ষতিকর হবে না।'
প্রায় এক দশক আলোচনার পর এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া চলতি বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ গ্রিডগুলো ইইউর সঙ্গে সংযুক্ত করার চুক্তি করে। যা পোল্যান্ডের সাথে লিটপোল লিঙ্কের মাধ্যমে করা হবে। এরইমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতিও সেরে রেখেছে পোল্যান্ড।'
রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধে বাল্টিক সাগরের তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জ্বালানি পাইপলাইন ও বিভিন্ন সংযোগ। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধ জাহাজগুলো নোঙর করার জন্য এ সমস্যা দেখা দেয়। গ্রিডগুলো আপগ্রেড করার জন্য সম্প্রতি দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে তারা।
প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা ও বিদ্যুৎ সংযোগে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে রাশিয়া। এমন অবস্থায়, বাল্টিক অঞ্চলে যে কোনও সমস্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত আছে ইইউ। নিরাপত্তা জোরদার করেছে পোল্যান্ড ও বাল্টিক নৌবাহিনী। ফ্রিগেট, বিমান ও ড্রোন নিয়ে এগিয়ে এসেছে সামরিক জোট ন্যাটো।
ইউরোপীয় জ্বালানি ও গৃহায়ন কমিশনার ড্যান জর্গেনসেন বলেন, 'এই মুহূর্তে বাল্টিক অঞ্চলে নিরাপত্তা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে কোনো ইউরোপীয় দেশকে রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। তাই নিরাপত্তা অগ্রাধিকার। পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা ও কার্বনমুক্তকরণের বিষয়ও আছে। যুদ্ধ নাও থাকলেও তাদের ইউরোপের জ্বালানি খাতের সঙ্গে যুক্ত করা হতো।'
বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম যে পর্যায়ে পৌঁছেছিল, এবার তা আরও বাড়বে।