বাণিজ্য যুদ্ধের নতুন ফ্রন্টলাইন খুলল যুক্তরাষ্ট্র

বিদেশে এখন
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
0

শুল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন খুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। যা পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায়, চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার আভাস দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। কানাডা, মেক্সিকো ও চীন থেকে অনেক পণ্য আমদানি নির্ভরশীল হওয়ায় বিভিন্ন শিল্পখাত হুমকির মুখে পড়বে বলে মত সংশ্লিষ্টদের। বাণিজ্য যুদ্ধ দীর্ঘ না হলে ওয়াশিংটনের চির প্রতিদ্বন্দ্বী বেইজিংয়ের ওপর খুব বড় প্রভাব পড়বে না বলেও মত বিশ্লেষকদের।

পাল্টা-পাল্টি শুল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে বাণিজ্যযুদ্ধে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা। প্রতিশোধ নিতে কানাডার দেখানো পথে হাঁটার আভাস মেক্সিকো এবং চীনের। মার্কিন পণ্যে অতিরিক্ত শুল্কারোপের হুঁশিয়ারি তাদেরও। এতে ওয়াশিংটনের সাথে অটোয়া, মেক্সিকো ও বেইজিংয়ের বাণিজ্য উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা ও মেক্সিকোর পণ্য আমদানিতে ২৫ শতাংশ এবং চীনা পণ্যে বর্তমান হারের চেয়ে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্কারোপে সৃষ্ট এই বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। এমনকি নতুন করে বৈশ্বিক অর্থনীতি অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলেও মনে করছেন অনেকে। শুধু তাই নয়, শেয়ার বাজারেও অস্থিরতার আভাস অর্থনীতিবিদদের।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা ও অর্থ বিভাগের অধ্যাপক কিউ বুহুই বলেন, ‘মার্কিন সরকারের নেয়া পদক্ষেপে পুরো বিশ্বে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এতে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেবে। কেননা তারা যদি প্রতিশোধ নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেই দেশগুলোর ওপর উচ্চ শুল্কারোপ করবে। তাই আমরা আগামী দিনগুলোতে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছি। এতে বিশ্বের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আরো ঘনীভূত হবে।’

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের নতুন এই শুল্কনীতির ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির হার বাড়বে, যা থেকে রেহাই পাবে না খোদ যুক্তরাষ্ট্রও। যার কারণে একটি মর্কিন পরিবারকে বছরে গড়ে অন্তত ২৬শ' ডলার অতিরিক্ত খরচ করতে হতে পারে। এমন আভাস দিয়েছেন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা ও অর্থ বিভাগের অধ্যাপক কিউ বুহুই।

কিউ বুহুই বলেন, ‘মার্কিন পরিবারের বার্ষিক গড় ব্যয় অন্তত ২ হাজার ৬০০ ডলার বাড়তে পারে। ৩০ থেকে ৫০ হাজার ডলার বার্ষিক আয়ের একটি পরিবারের জন্য যা অনেক বড় চাপ। এটি নিয়ে এখনই ভাবার সময়। আমি বলব যুক্তরাষ্ট্র নিজেই মুদ্রাস্ফীতির চাপে টালমাটাল হয়ে পড়বে। ট্রুডোও বলেছেন, মার্কিন ভোক্তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

এই যখন অবস্থা তখন, চীনা পণ্যে বর্তমান হারের চেয়ে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্কারোপে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বেইজিং? এমন প্রশ্নের জবাবে এই বিশ্লেষক বলছেন, দুদেশের বাণিজ্যযুদ্ধে লোকসানের চেয়ে উল্টো সুবিধা পেতে পারেন চীনা উৎপাদকরা। তবে মুদ্রাস্ফীতির চাপ মোকাবিলার বিষয়টিও বেইজিংকে মাথায় রাখার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের। কেননা এখন খুব বড় ধাক্কা না এলেও বাণিজ্যযুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হলে চীনা অর্থনীতিকেও ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে।

কিউ বুহুই বলেন, ‘আমি আশা করব চীন মার্কিন পণ্য আমদানির উপর ১০% শুল্ক আরোপের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই প্রতিশোধ নেবে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বিরল এক ধরনের ধাতু রপ্তানি সীমিত করতে পারে চীন। যার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পগুলো নির্ভরশীল। এই পণ্যটি যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে চীন যদি নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে তাহলে অনেক সুবিধা পাবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন এই শুল্কনীতি।

ইএ