বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ কানাডা। টরন্টো, মন্ট্রিয়াল কিংবা ভ্যাঙ্কুভারের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় মেসি আর নেইমার ভক্ত সবচেয়ে বেশি। যেনো আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল সমর্থকদের মিলন মেলায় রূপ নিয়েছে কানাডা।
বিশ্বকাপ উন্মাদনায় শৈশবের স্মৃতিতে হাতড়ে বেড়াচ্ছেন ফুটবলপ্রেমী অভিবাসীরা। বিশ্বকাপের আসর শুরু হতেই ক্ষণিকের জন্য আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী ও পরিবার। প্রিয় দল এবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে সেই আকাঙ্ক্ষায় বুঁদ হয়ে আছেন সবাই।
ফুটবল ভক্ত বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। অবশেষে বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে এবং আমরা তা নিজ চোখে মাঠে বসে দেখতে পারব, এটা ভাবতেই অন্যরকম ভালো লাগছে। আশা করি এবারের বিশ্বকাপটি চমৎকার হবে।’
আরও পড়ুন
কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকে ম্যাচের সময়সূচি মিলিয়ে চলছে পরিকল্পনা। কাজ শেষে একসঙ্গে বসছে খেলা দেখার আসর।
বাংলাদেশি একজন প্রবাসী ফুটবল ভক্ত বলেন, ‘টরন্টোর পরিবেশ এখন পুরো ফুটবলময়। বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ এসেছে, সবার মাঝে অন্যরকম একটা সম্প্রীতি দেখতে পাচ্ছি। আমি ফুটবল খেলা দেখতে খুব ভালোবাসি এবং কানাডায় খেলা হওয়াতে আমাদের জন্য অনেক সুবিধা হয়েছে।’
চতুর্থ কাপের আশায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশের হৃদয়জুড়ে এবারও আছেন লিওনেল মেসি। অনেকের দাবি, ২২ সাল থেকে ক্রমেই কমছে ব্রাজিলের সমর্থকের সংখ্যা।
বাস্তবে অবশ্য ব্রাজিল ভক্তদের সংখ্যা কম নয়। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঐতিহ্য, নান্দনিক ফুটবল আর নতুন প্রজন্মের তারকাদের নিয়েও রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে এরই মধ্যে কানাডায় বেড়েছে আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীর সংখ্যা। হোটেল, রেস্তোরাঁ, ফ্যান জোন আর পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দেখা যাচ্ছে বাড়তি ভিড়। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা সমর্থকেরা ফুটবলকে ঘিরে তৈরি করছেন এক বৈশ্বিক উৎসব আবহ।
বহুজাতিক সংস্কৃতির দেশ কানাডা বরাবরই বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক হওয়ায় সেই বৈচিত্র্যকে আরও রঙিন করে তুলেছে। সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ উন্মাদনা কানাডার অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হাতছানি বলেও মনে করা হচ্ছে।




