বিদেশে আয়, দেশে প্রতারণা: প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

প্রবাসী
প্রবাসী | ছবি: এখন টিভি
0

দীর্ঘ সময় প্রবাসে কাটিয়ে আসা রেমিট্যান্স যোদ্ধারা নিঃস্ব হচ্ছেন পরিবারের প্রতারণায়। শূন্য হাতে ফেরা কারও কারও নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতায় কাটে বাকি সময়। এমন অবস্থায় প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় সরকারের কেমন ব্যবস্থাপনা দরকার? কী বলছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা?

ঢাকার বংশালের সালাম খান। ১০ বছর ছিলেন সৌদি আরব। প্রবাস জীবনে আয়ের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাঠান মায়ের ব্যাংক হিসাব নম্বরে। দেশে ফিরে দেখেন সঞ্চয়ের সেই টাকা তুলে নেয়া হয়েছে আগেই। বোন ও ভগ্নীপতির বিরুদ্ধে সেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে ন্যায় বিচারের আশায় প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন এ হতভাগা প্রবাসী।

ভুক্তভোগী সালাম খান বলেন, ‘আইন সবার জন্য সমান হতে পারে। হোক এটা পারিবারিক বা অন্যকিছু। গিল্টি অ্যান্ড গিল্টি, যে অন্যায় করবে তার তো আইনি বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু আমি সেই বিচার-ন্যায়বিচারটা পাচ্ছি না।

ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকায় এমন ভুক্তভোগী হন অনেকেই। অভিযোগ বলতে গেলে নানাভাবে হন হয়রানি, নির্যাতন। নষ্ট হয় তাদের সামাজিক সুরক্ষা।

প্রবাসীরা জানান, সরকারের কিছু দায়িত্ব নিবে নেয়া দরকার আছে। অনেক প্রবাসী হয়রানি হয়। এগুলো অনেক প্রবাসীর সাঙ্গেই হচ্ছে বলে জানান তারা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তারা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থ বছরেও সেই আয় ২৭ বিলিয়ন ছুঁয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে বড় জোগান দেয়া প্রবাসীদের অনেকেই বুঝতে পারেন না টাকা পাঠানোর সঠিক চ্যানেল।

অভিবাসন বিশ্লেষকরা বলছেন, রেমিট্যান্স ম্যানেজের ধারনা না থাকায় এমন পরিস্থিতিতে পড়েন প্রবাসীরা। কর্মীদের বিদেশ পাঠানোর আগে অর্থ ব্যবস্থাপনার ওপর ধারনা দেয়া জরুরি।

আরও পড়ুন:

ফিল্মস ফর পিস ফাউন্ডেশন নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী বলেন, ‘যাওয়ার আগেই তার টাকা আসলে কষ্টে অর্জিত টাকাটা কী করবে, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত এবং এই ব্যাপারে সরকারের আসলে একটা প্রকল্প বা একটা প্ল্যান থাকা উচিত।’

এমন হয়রানির বিষয়ে সরকারের ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষায় রাষ্ট্রের উদ্যোগগুলোতে প্রবাসী ও বিদেশ ফেরত কর্মীদের যুক্ত করা জরুরি বলছেন এ অভিবাসন বিশেষজ্ঞ।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান বলেন, ‘রাষ্ট্রের যে নানা ধরনের উদ্যোগগুলো রয়েছে, সোশ্যাল সেফটি নেট বা সুরক্ষার যে উদ্যোগগুলো রয়েছে, সামাজিক সুরক্ষা—সে সামাজিক সুরক্ষায় আমরা মনে করি যে, প্রবাসী এবং বিদেশফেরতদের যুক্ত করাটা খুব জরুরি।’

প্রবাসীদের নির্যাতন, নিরাপত্তা ও আর্থিক সুরক্ষায় সরকারি উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রবাসী কল্যাণ সেলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা সহযোগিতা পাচ্ছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে মন্ত্রণালয়ও ব্যবস্থা নিচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, ‘জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দ্রুত সহায়তায় তাদেরকে আমরা স্থানীয়ভাবে তাদের প্রপার্টি কিংবা তারা কোথাও কোনো ভুক্তভোগী হলে যে সহযোগিতা করার, সেটা আমরা করে থাকি। মন্ত্রণালয় ও ওয়েজ আর্নার্স বোর্ড—সেখানে যদি তারা লিখিত অভিযোগ করে যেকোনো বিষয়ে, সে অনুযায়ী আমরাও আমাদের জায়গা থেকে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।’

অধিকাংশ প্রবাসী তাদের অর্জিত পুরো অর্থ পরিবারের কাছে সঞ্চয় করতে গিয়ে হন প্রতারণার শিকার। আছে নানামুখী নির্যাতনের গল্প। সেক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা ও আর্থিক সুরক্ষার জন্য সরকারের উদ্যোগ কবে দৃশ্যমান হবে এই প্রশ্ন প্রবাসীদের।

এফএস