একের পর এক এমন কঠোর বিধি আরোপ করেও থামানো যাচ্ছে না যুক্তরাজ্যমুখী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল। এ অবস্থায় নাগরিকত্ব আইন আরও কঠোর করলো স্টারামার প্রশাসন। নতুন আইন অনুযায়ী, অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমালে মিলবে না ব্রিটিশ নাগরিকত্ব। এতে করে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য বন্ধ হলো সহজ পথে নাগরিকত্ব পাওয়ার সব দরজা। অর্থাৎ শরণার্থী হিসেবে আগে ১০ বছর বসবাসের পর নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকলেও, অবৈধদের জন্য সেই সুযোগ এখন পুরোপুরি বন্ধ।
ব্রিটেন অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবী ব্যারিস্টার কামরুল হাসান বলেন, ‘অবৈধভাবে কেউ যদি এদেশে প্রবেশ করে এবং ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় অর্থাৎ লরি, বোর্ট দেশে প্রবেশ করে তাহলে তাদের আপ্লিকেশন ফর সিটিজেনশিপ বাতিল হয়ে যাবে।’
নাগরিকত্ব দেয়ার সুযোগ বাতিলসহ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল থামাতে আটক অভিযানও জোরদার করেছে বর্তমান লেবার প্রশাসন। এছাড়াও অবৈধ অভিবাসী মুক্ত যুক্তরাজ্য গড়তে একের পর এক ব্যবস্থা নিচ্ছে হোম অফিস কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের কায়দায় যুক্তরাজ্যেও আটকের মুখোমুখি অবৈধ অভিবাসীরা।
অবৈধ অভিবাসীদের কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ দিলে আগের চেয়ে আরও বেশি পরিমাণে গুণতে হবে জরিমানার অর্থও। সম্প্রতি বেশ কিছু বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও চালানো হয়েছে এমন অভিযান।
ব্রিটেনের অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবী নাশিত রহমান বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থ হবার ফলে নির্বাচনে তারা ইমিগ্রেশনকে ব্যবহার করছে। এজন্য তারা সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। ’
এদিকে, বর্ডার সিকিউরিটি বিলেও বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে লেবার সরকার। যেখানে অবৈধ পথে অভিবাসীদের যুক্তরাজ্য আসতে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
অবৈধ পথে আসা শরণার্থীদের জন্য নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তন আনায় বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রায় ৭১ হাজার অভিবাসী বঞ্চিত হবেন ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়া থেকে। অভিবাসন প্রশ্নে তাই এই মুহূর্তে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অবস্থানে ব্রিটিশ সরকার।