অবৈধ অভিবাসীদের জন্য যম হয়ে এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন দেশের অবৈধ অভিবাসীদের।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রায় ১১ হাজার মেক্সিকানকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এ তথ্য তুলে ধরেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট। জানান, হন্ডুরাসের নাগরিকদেরও মেক্সিকোর মাধ্যমে প্রত্যাবাসন কর্মসূচি চলছে। মেক্সিকান প্রেসিডেন্ট জানান, সীমান্ত সুরক্ষিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করবে তার সরকার। এদিকে পেরুতে ফেরত পাঠানো হয়েছে শতাধিক নাগরিককে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম বলেন, ‘গেল ২০ জানুয়ারি থেকে ১০ হাজার ৯৬৪ জনকে মেক্সিকোয় ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যার মধ্যে ২ হাজার ৫৩৯ জন বিদেশি নাগরিক। আমরা হন্ডুরাসের নাগরিকদের তাদের দেশে স্বেচ্ছায় ফেরত পাঠাতে সহায়তা করছি।’
ব্যয় সংকোচন নীতিতে হাঁটার পথে বারবার হোঁচট খাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছেন আদালত। এবার মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি এর ২ হাজারের বেশি কর্মীকে বৈতনিক ছুটিতে পাঠানোর পরিকল্পনাও আদালতের নির্দেশে সাময়িকভাবে বন্ধ হলো। যদিও সংস্থাটির সদর দপ্তর পুনরায় চালু করা কিংবা সহায়তা কর্মসূচি শুরু করার আবেদন খারিজ করেন আদালত।
প্রেসিডেন্টের উন্মাদনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে। যেখানে গণহারে কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করা হয়। অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা বিক্ষোভকারীদের।
বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, ‘আমরা এখন আছি, আগামীকাল আসবো, যতক্ষণ আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে না, ততক্ষণ লড়াই চালিয়ে যাবো।’
আরেকজন বলেন, ‘যদি ছাঁটাইয়ের কোনো বিকল্প না থাকে, সেক্ষেত্রে কর্মীদের অধিকার অনুযায়ী তাদের সকল পাওয়া পরিশোধ করতে হবে।’
তবে কর্মী ছাঁটাইয়ের পেছনে কলকাঠি নাড়া সরকারি দক্ষতা দপ্তরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইলন মাস্কের নেতৃত্বে তিনি খুশি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এই তরুণ সদস্যদের কাজে আমি গর্বিত। তারা তরুণ হলেও অনেক চৌকস। আমার নির্দেশেই এই কাজ করা হচ্ছে। এটি সহজ কাজ নয়। আমরা অনেক দুর্নীতি খুঁজে পেয়েছি। এর বাইরেও অনেক কাজ করতে হবে।’
এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেখানে ইউএস স্টিলে বিনিয়োগ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।