কক্সবাজারের আদি কথা ও ভৌগোলিক পরিচয় (History and Geography)
কক্সবাজারের প্রাচীন নাম ছিল পালংকী (Palongki)। ১৭৯৯ সালে ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের (Captain Hiram Cox) নামানুসারে এর নামকরণ হয়। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি পর্যটন জেলা, যার পশ্চিমে রয়েছে বিশাল বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal)।
আরও পড়ুন:
দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য (Historical and Tourist Attractions)
প্রাচীন ঐতিহ্য: শাহ সুজার আমলে নির্মিত আজগবি মসজিদ (Azgabi Mosque) বা চৌধুরীপাড়া মসজিদ এবং শহরের বড় বড় বৌদ্ধ ক্যাং (Buddhist Kyaung) পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।
রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড: সমুদ্রের নিচের রহস্য দেখতে ঝাউতলায় অবস্থিত দেশের প্রথম সি-অ্যাকুরিয়াম (Sea Aquarium) ঘুরে আসতে পারেন। এখানে প্রায় ২০০ প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী রয়েছে।
হিলটপ সার্কিট হাউস ও রাডার স্টেশন: পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত রাডার স্টেশন (Radar Station) এবং হিলটপ সার্কিট হাউস (Hilltop Circuit House) থেকে পুরো শহর ও সমুদ্রের প্যানোরামিক ভিউ পাওয়া যায়।
জনপ্রিয় সৈকতসমূহ (Popular Sea Beaches)
লাবণী ও সুগন্ধা সৈকত: পর্যটকদের সবচেয়ে প্রিয় লাবণী সৈকত (Laboni Beach) এবং সমুদ্রস্নানের জন্য আদর্শ সুগন্ধা সৈকত (Sugandha Beach)। এখানে বিচ বাইক রাইডিং ও সার্ফিংয়ের সুবিধা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
মেরিন ড্রাইভ ও ইনানী (Marine Drive and Inani)
কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ (80 km Marine Drive) পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর সড়ক।
হিমছড়ি ও ইনানী: মেরিন ড্রাইভের পথেই পড়বে হিমছড়ি পাহাড় (Himchari Hill) ও জলপ্রপাত। এরপর পাথুরে সৈকত ইনানী (Inani Beach) এবং সেন্টমার্টিনের স্বাদ দেওয়া পাতুয়ারটেক (Patuartek)।
দ্বীপ ও বন্যপ্রাণী (Islands and Wildlife)
মহেশখালী দ্বীপ: স্পিডবোটে ১৫ মিনিটে যাওয়া যায় পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালীতে (Moheshkhali Island)। এখানে আদিনাথ মন্দির ও বৌদ্ধ বিহার দেখার মতো।
ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক: পরিবার নিয়ে বাঘ, সিংহ ও হাতি দেখতে ঘুরে আসতে পারেন সাফারি পার্কে (Dulahazara Safari Park)।
রোমাঞ্চকর প্যারাসেইলিং (Thrilling Parasailing)
অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য হিমছড়ি ও দরিয়ানগর পয়েন্টে রয়েছে প্যারাসেইলিং (Parasailing) করার সুযোগ। আকাশে ভেসে সমুদ্র দেখার অভিজ্ঞতা হবে অবিস্মরণীয়।
ইতিহাসের শহর রামু
কক্সবাজারের নামকরণের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে রামু। এখানেই রয়েছে ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের বাংলো। ইতিহাস প্রেমীদের জন্য রামুর প্রধান আকর্ষণ হলো গৌতম বুদ্ধের প্রায় ১০০ ফুট লম্বা বিশাল সিংহশয্যা মূর্তি। এছাড়াও রাংকোট বৌদ্ধবিহার এবং কেন্দ্রীয় সীমাবিহারের স্থাপত্যশৈলী পর্যটকদের মুগ্ধ করে। কথিত আছে, রামকোট বনাশ্রমে একসময় রাম ও সীতা বনবাসকালে অবস্থান করেছিলেন, যা এই স্থানটিকে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
বন্যপ্রাণের স্বর্গরাজ্য ডুলাহাজরা
প্রায় ২,২২৪ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় সাফারি পার্ক ডুলাহাজরা। এখানে বাঘ, সিংহ, হাতি থেকে শুরু করে বিরল প্রজাতির উল্লুক ও বনরুইয়ের দেখা মেলে। বিশেষ জিপ বা বাসে করে বনের গভীরে প্রাণীদের বিচরণ দেখার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর।
আরও পড়ুন:
ভ্রমণ সহায়িকা: যাতায়াত ও আবাসন (Travel Guide: Transport and Accommodation)
বাস ও আকাশপথ: ঢাকা থেকে এসি বা নন-এসি বাসে (Bus service) অথবা বিমানে (Flights to Cox's Bazar) সরাসরি আসা যায়। ভাড়া সাধারণত ৭০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মধ্যে।
থাকা-খাওয়া: কক্সবাজারে ৫ শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট (Hotels and Resorts) রয়েছে। তারকা মানের হোটেলের মধ্যে সায়মন, সীগাল ও রয়েল টিউলিপ অন্যতম।
কক্সবাজার ভ্রমণে জোয়ার-ভাটার তথ্য সবসময় আপডেটেড রাখুন। সমুদ্রস্নানের সময় অবশ্যই সি-সেইফ লাইফ গার্ডদের নির্দেশনাবলী মেনে চলুন। আপনার নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য আমাদের কাম্য।ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার: প্রকৃতির এক জাদুকরী রাজ্য
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
আরও পড়ুন:




