দেশে এখন
পরিবেশ ও জলবায়ু

অসহনীয় গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন

চলমান তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন। টানা বৈরি আবহাওয়ায় অস্বস্তিতে প্রাণিকূল। প্রকৃতি ও পরিবেশ নিষ্প্রাণ হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালে গরমে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

কাঠফাটা রোদ আর তপ্ত হাওয়ায় অসহনীয় জীবনযাত্রা। গরমের তীব্রতায় নাভিশ্বাস জনজীবন। তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী থাকায় একটু শীতলতার খোঁজে সবাই যেন ব্যাকুল হয়ে উঠেছে।

তীব্র গরম আর ভ্যাপসা গরমে বাড়ছে হিট স্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। হাসপাতালগুলোতে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সৈয়দপুর হাসপাতালে দৈনিক সহস্রাধিক রোগী সেবা নিচ্ছেন। যাদের বেশিরভাগই জ্বর-সর্দি, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত।

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাজমুল হুদা বলেন, ‘হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আমরাও সাধ্যমতো রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

এদিকে ওষুধ ও স্যালাইনের ঘাটতি না থাকলেও জনবল সংকট ও লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে সেবা।

মেহেরপুর, শরীয়তপুর ও মৌলভীবাজারের হাসপাতালগুলোতে ৩ গুণ রোগী বেড়েছে। চাপ বাড়ায় সেবা পেতে দীর্ঘসময় অপেক্ষাও করতে হচ্ছে। বেশি করে পানি পান ও অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়াসহ নানা পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে সূর্যের প্রখর তাপে শুকিয়ে যাচ্ছে যশোরের গদখালীর ফুলের বাগান। অতিরিক্ত তাপে নষ্ট হচ্ছে ফুল। দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগবালাই। এতে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির ফুল নষ্টের শঙ্কায় চাষিরা।

চাষিরা বলেন, ‘গরমের কারণে ফুলের বাড়তি যত্ন নিতে হচ্ছে। এছাড়া অনেক ফুলগাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

শুধু ফসলের ক্ষেত নয় কাঠফাটা গরমে গলে যাচ্ছে সড়কের বিটুমিন। তীব্র তাপে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে ঘোড়াশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকার পিচঢালা সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। সড়কের বিটুমিনে আটকে যাচ্ছে জুতা। টায়ার পুড়ে ছিদ্র হচ্ছে যানবাহনের চাকা।

গাড়ির চালক-হেলপাররা বলেন, ‘সড়কে গাড়ি নিয়ে বের হওয়া যাচ্ছে না। গাড়ি চালাতে গেলে টায়ারের ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।’

এছাড়া গনগনে সূর্যের বিরামহীন তাপ রাজশাহী নগরীকে তাঁতিয়ে তুলেছে। তবে সূর্যের দাপুটে আচরণে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে সড়কের দুই পাশ ও বিভাজকে রোপন করা ১০ থেকে ১২ লাখ গাছ। এসব বৃক্ষের ছায়ায় বিশ্রাম নেন পথচারীরা।

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর