শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে; চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতা

শিক্ষার্থীরা
শিক্ষার্থীরা | ছবি: এখন টিভি
1

আসছে বাজেটে শিক্ষাখাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তবে শিক্ষাবিদেরা বলছেন, বরাদ্দের অর্থ যেন অপচয় বা দুর্নীতি না হয়—তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ- শুধু বরাদ্দ বাড়িয়ে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নয়, প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা ও জবাবদিহিতা।

টেকসই উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি মজবুত করতে এবার শিক্ষা খাতে বাজেটের আকার বাড়ানো হচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পড়াশোনায় ধরে রাখতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে উপবৃত্তি, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে মিড ডে মিল ও বিনামূল্যে বই বিতরণের মতো সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোকে।

প্রস্তাবিত প্রাক্কলন অনুযায়ী, শিক্ষাখাতে বড় পরিসরে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য চলতি বাজেট ৫০ হাজার ৩০২ কোটি টাকায় দাঁড়াচ্ছে। অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বেড়ে ৪২ হাজার ১৪৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ বৃদ্ধির হার প্রায় ১৯ শতাংশ। সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৯২,৪৪৭ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৯ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা বেশি।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘যে কাজ করলে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে, ইনশাআল্লাহ আমরা অবশ্যই সেই কাজ করবো।’

কেবল বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো নয়, বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখতে চায় শিক্ষার্থীরা। জানান, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষাখাতে বাজেট বাড়লে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে এবং পড়াশোনার মান ভালো হবে।

আরও পড়ুন:

শিক্ষাবিদরা বলছেন, বরাদ্দ বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না, বাস্তবায়ন ও শক্তিশালী তদারকি নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘বিনামূল্যে বই বিতরণের যে বিশাল কর্মযজ্ঞ রাষ্ট্র নিজের কাঁধে নিয়েছে। এটাও অন্য দেশে সাধারণত এত বড় দায়িত্ব, অর্থনৈতিকভাবে উন্নত রাষ্ট্রও এ দায়িত্বটা নেয় না। সবার শিখন-শেখানোর উপযোগী পরিবেশ, উপকরণ এবং আপনার ব্যাবহারিক শিক্ষার জন্য যা যা পরিবেশগত আছে, সেগুলো নিশ্চিত করতে হবে।’

সিপিডির পরিচালক জানান, শুধু উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নয়, প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা ও জবাবদিহিতা। সিডিপির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘অবকাঠামো খাতের বিনিয়োগটি এখনও একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক। যেখানে শিক্ষার্থীরা যাতে মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারে। মাত্র বেতনটা দেয়া না, মাত্র স্কুলের অবকাঠামো না; সেটার জন্য আরও অন্যান্য ধরনের কারিগরি, প্রযুক্তিগত কোন জায়গাতে কী ধরনের বিনিয়োগ করে এ বণ্টনটিকে আরও বেশি সুষম করা যায়, সেটি দেখা।’

২০১৬-১৭ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর। এক দশকে জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ১৪ শতাংশ থেকে কমে ১২ শতাংশে নেমেছে। জিডিপির অংশ হিসেবেও ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৫৩ শতাংশে, যা আগে ছিলো প্রায় ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজেট বাস্তবায়নে সক্ষমতার হার কমে ৯৫ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ৮৭ শতাংশে। এরই মধ্যেই নতুন পরিকল্পনায় শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিএনপি সরকার।

জেআর