কোথাও আবার দাঁড়িয়ে থেকেই লিখতে হচ্ছে খাতায়। হল পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা শিক্ষিকাকেও দেখা যায় চেয়ারের ওপর পা তুলে বসে থাকতে। চারদিকে পানি, তবুও চলছে পরীক্ষা।
এদিকে বৃষ্টির সঙ্গে শুরু হয় আরেক দুর্ভোগ বিদ্যুৎ বিভ্রাট। পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পরই বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেক কেন্দ্রে মোমবাতি ও চার্জলাইটের ক্ষীণ আলোয় পরীক্ষা নিতে হয়। অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষে, অস্বস্তিকর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখাও হয়ে পড়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকরা। কেউ পানিতে ভিজে, কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করেছেন। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় দেখা যায়, হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে বাড়ির পথে ফিরছে শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন:
অভিভাবক হারুনুর রশিদ জানান, পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট পরই বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে মোমবাতি ও চার্জলাইটে পরীক্ষা চালানো হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ঈশ্বর পাঠশালা কেন্দ্রে পানি ঢুকে পড়ে। বিশেষ করে পুরাতন ভবনে যারা পরীক্ষা দিয়েছে, তাদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেই লিখতে হয়েছে।
আরেক অভিভাবক নাজমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সারা বছর পড়াশোনা করে আজকে এই অবস্থায় পরীক্ষা দিতে হবে, এটা ভাবতেই কষ্ট লাগে। বাচ্চারা ভিজে গেছে, খাতাও ভিজে যাওয়ার ভয় ছিল। এমন পরিস্থিতিতে তাদের মানসিক অবস্থা কেমন থাকে, সেটাও ভাবার বিষয়।’
অভিভাবক আবদুল কাদের বলেন, ‘আমরা বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম, আশেপাশে কোথাও ঠিকমতো আশ্রয়ও নেই। বৃষ্টির পানি বাড়তে থাকায় নিজেরাও বিপদে পড়েছি। পরীক্ষা কেন্দ্রের এমন প্রস্তুতিহীনতা দুঃখজনক।’
আরও পড়ুন:
এ বিষয়ে কেন্দ্রসচিব বলেন, ‘হঠাৎ করে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করেছি। মোমবাতি ও চার্জলাইট দিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পানি প্রবেশের বিষয়টিও নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে পুরাতন ভবনের কিছু কক্ষে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল।’
এদিকে টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হলে তা নিরসনে মাঠে নামে সিটি করপোরেশন। প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর নির্দেশে কর্মীরা দ্রুত ড্রেন ও খালের মুখ পরিষ্কার করে পানি সরানোর চেষ্টা করেন। তবুও বিকেল পর্যন্ত নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে।





