অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিমালায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতেই বৃত্তি পরীক্ষা: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ | ছবি: এখন টিভি
0

দীর্ঘ ১৬ বছর পর বৃত্তি পরীক্ষা ফেরায় উচ্ছ্বাস থাকলেও অসময়ে পরীক্ষায় মানসিক চাপ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের, এমন অভিযোগ অভিভাবকদের। অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতেই বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানান, আগামীতে বৃত্তি পরীক্ষার কোটা বৈষম্য নিরসন ও উপবৃত্তির অর্থ বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের।

রাজধানীর মোহাম্মদ পুরের স্পন্দন-বি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাত, শান্তা ও ফাহিমা। তারা আজ (শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল) তৃতীয় দিনের মতো পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসেন বাদশা ফয়সাল ইন্সটিটিউটে। অথচ ৪ মাস ধরে ষষ্ঠ শ্রেণির ক্লাস করছে তারা।

সারা দেশে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেনীতে থেকেই অংশ নিচ্ছে পঞ্চম শ্রেনীর বৃত্তি পরীক্ষায়, যা তাদের রুটিন পড়াশুনার ব্যাঘাতের পাশাপাশি বাড়িয়েছে মানসিক চাপও। শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের পড়াশোনা বেশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে। টানা পরীক্ষার কারণে নাজেহাল অবস্থা তাদের।

২০০৮ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা চালুর মধ্য দিয়ে বন্ধ হয়ে যায় বৃত্তি পরীক্ষা। দীর্ঘ ১৬ বছর পর পুনরায় বৃত্তি ফিরে এলেও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন অনেক অভিভাবক।

অভিভাবকদের অভিযোগ, ডিসেম্বরের পরীক্ষা এপ্রিলে নেয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এতে রেজাল্ট নিয়ে শঙ্কা রয়েছে তাদের। তারা জানান, বাচ্চারা টানা পরীক্ষার চাপ সামলাতে বেশ হিমশিম খাচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার রাজধানী মোহাম্মদপুরের বাদশা ফয়সাল ইন্সটিটিউটে বৃত্তি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

আরও পড়ুন:

এসময় তিনি বলেছেন, বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা ছিলো অন্তবর্তী সরকারের। শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতেই এই প্রক্রিয়া বাতিল করেনি বর্তমান সরকার। মানসিক চাপ নয় বরং স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বৃত্তি পরীক্ষা হলো শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের পাঠ্যক্রমের প্রতি উৎসাহিত করার জন্য। এর জন্য কোনো প্রসেস আমরা বাদ দিতে চাই না। এর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিলো, তা তারা কোনো কারণে দিতে পারেনি। সেটা আমরা চালু রেখেছি।’

আগামীতে বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নেয়ার পাশাপাশি বৃত্তি পরীক্ষায় সরকারি-বেসরকারি কোটা পদ্ধতি পরিবর্তনেরও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘মেইন লক্ষ্য একটা—প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ক্লাসরুমে নিয়ে আসা। এর জন্য পরিবারকে যদি ফাইনান্সিয়াল ইনসেন্টিভ দিতে হয়, কীভাবে সেটা সবচেয়ে কার্যকরী হতে পারে, সেটা নিয়ে আমরা এরই মধ্যে আলোচনা শুরু করেছি।’

আগামী বছর থেকে বৃত্তি ও উপবৃত্তির অর্থও বাড়তে পারে এমন পরিকল্পনার আভাসও দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হওয়ার কথা ছিলো। তাদের নীতিমালাতেই পরীক্ষা হচ্ছে।’

এসএইচ