২০২৩ সালে বিগত সরকারের প্রণীত নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের পর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরীক্ষা নেয়া বন্ধ করা হয়। ওই শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো মূল্যায়ন ছিল না। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে সব বিষয়ে কেবল ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ৫০ শতাংশ সামষ্টিক ও ৫০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়নের বিধান ছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর মাধ্যমিক পর্যায়ের নতুন শিক্ষাক্রম বাতিল করা হলেও প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাক্রম বহাল রাখা হয়। তবে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। এর ফলে ২০২৫ সালেও প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরীক্ষা হয়নি। সংশোধিত নির্দেশনায় তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ৩০ শতাংশ ধারাবাহিক এবং ৭০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের কথা বলা হয়।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন শাখার ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ মো. সাফায়েত আলম আজ (সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জানান, গত ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এনসিসিসির সভায় প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সংশোধিত মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে এনসিটিবির শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও অ্যাসেসমেন্ট শাখার ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ মাফরুহা নাজনীন বলেন, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে যেসব বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সেসব বিষয়ে ৫০ শতাংশ ধারাবাহিক ও ৫০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন থাকবে। আর যেসব বিষয়ে শুধু শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান করা হয়, সেসব বিষয়ে শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে এবং কোনো সামষ্টিক মূল্যায়ন থাকবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান হওয়া বিষয়ে ৩০ শতাংশ ধারাবাহিক এবং ৭০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন কার্যকর থাকবে। এছাড়া এসব শ্রেণিতে যেসব বিষয়ে কেবল শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান করা হয়, সেগুলোতে শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে।’
নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি চলতি বছর থেকেই কার্যকর হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিজ উদ্যোগে প্রান্তিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী একাধিক বিদ্যালয় সমন্বিতভাবে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করতে পারবে। প্রতি প্রান্তিক পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে পাঠ্যপুস্তকের অনুশীলন থেকে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ প্রশ্ন রাখতে হবে।’
এনসিসিসির সভার কার্যবিবরণী আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে পাওয়ার পর এনসিটিবি মূল্যায়ন-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাবে বলেও জানান তিনি।
প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের মূল্যায়নে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মাফরুহা নাজনীন বলেন, ‘আগের মতোই প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকছে না।’





