
পাঁচ শিক্ষা বোর্ড ও এনসিটিবিতে নতুন চেয়ারম্যান
দেশের শিক্ষা প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল এনেছে সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডসমূহ, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান ও সচিব পদে একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

পাঠ্যবইয়ে ফুটবল-ক্রিকেট-দাবাসহ ৭টি খেলা যুক্ত করার নির্দেশ
পাঠ্যবইয়ে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবাসহ সাতটি ক্রীড়া সম্পর্কিত পাঠ ও ব্যবহারিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত এ খেলাগুলো জাতীয় শিক্ষাক্রমে রাখা হবে।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরীক্ষা ফিরছে
তিন বছর পর আবার প্রাথমিক শিক্ষার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব শ্রেণিতে ধারাবাহিক মূল্যায়নও বহাল থাকবে। জাতীয় শিক্ষাক্রমের মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিমার্জনের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)। গতকাল (রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বিদ্যালয়-১) রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

বিনামূল্যের পাঠ্যবই: প্রাথমিক এগোলেও পিছিয়ে মাধ্যমিক
শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছনো নিয়ে শঙ্কা
২০২৬ সালের বিনামূল্যের পাঠ্যবই প্রস্তুত হচ্ছে। প্রাথমিকের ৯০ শতাংশ বই ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে গেলেও, মাধ্যমিকের বই রয়ে গেছে প্রেসেই। ৭০ শতাংশের বেশি বই এখনও প্রস্তুত হয়নি। জানুয়ারির মধ্যে এসব বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছনো নিয়ে শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। অনেকের অভিযোগ, কোনো কোনো প্রেস মালিক শেষ সময়ে নিম্নমানের বই দিতে খুঁজছেন নানান ফাঁকফোকর। কিন্তু এনসিটিবি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

২০২৭ থেকে প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম; শঙ্কায় শিক্ষাবিদরা
২০২৭ সাল থেকে প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। কিন্তু শিক্ষা কমিশন গঠন ও শিক্ষানীতি চূড়ান্ত না করে নতুন কারিকুলামের দিকে গেলে সেটাও ব্যর্থ হবার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা। কারিকুলাম বাস্তবায়নের আগে পাইলটিং প্রক্রিয়ায় যাবে কি না সেটা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় এনসিটিবি।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বছরের শুরুতেই সব বই দেয়ার পরিকল্পনা এনসিটিবির
চলতি শিক্ষা বছরে শতভাগ বইয়ের ছাড়পত্র হয়েছে গত ২৪ মার্চ। তবে এপ্রিলের মাঝামাঝিতেও কোথাও কোথাও সব বই পায়নি শিক্ষার্থীরা। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে যেন সব বই বছরের শুরুতেই দেয়া সম্ভব হয়, ইতোমধ্যে সেই পরিকল্পনা করেছে এনসিটিবি। ২০২৬ সালের প্রাথমিকের বই অক্টোবরে আর মাধ্যমিকের বই নভেম্বরে মাঠ পর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। একই সাথে আবারও পরিমার্জন হচ্ছে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রম।

অবৈধ নোট বই ছাপানোর দায়ে কারাদণ্ড, ৪ হাজারের বেশি বই জব্দ
অবৈধভাবে পাঠ্যবইয়ের নোট বই ছাপানোর অভিযোগে একজনকে ছয়দিনের কারাদণ্ড ও ৪ হাজারের বেশি সহায়ক বই জব্দ করেছে মোবাইল কোর্ট।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের সমাবেশে হামলায় অন্তর্বর্তী সরকারের নিন্দা
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সামনে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ (বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এই নিন্দা জানানো হয়।

এনসিটিবি ভবনের সামনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ছাত্রদলের প্রতিবাদ
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ভবনের সামনে আন্দোলনরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের ওপর একটি ভুঁইফোড় সংগঠনের আড়ালে একদল সন্ত্রাসী ভয়াবহ হামলা করেছে বলে দাবি করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

পাঠ্যবইয়ে ‘আদিবাসী’ গ্রাফিতি: এনসিটিবির সামনে পৃথক কর্মসূচিতে দু’পক্ষের সংঘর্ষ
নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দযুক্ত গ্রাফিতি রাখা ও না রাখার দাবিতে পৃথক কর্মসূচির মাঝেই দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ (বুধবার, ১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ভবনের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শতভাগ বই দিতে না পারায় শিক্ষা উপদেষ্টার দুঃখপ্রকাশ
বছরের প্রথম দিন নতুন বই বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে শতভাগ বই পেতে ২০ জানুয়ারির পর্যন্ত সময় লাগবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এদিকে শতভাগ বই দিতে না পারায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। আর এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেছেন, বছরের পর বছর বই উৎসবের নামে অপচয় হয়েছে। এবার পাঠ্যপুস্তকে জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতি স্থান পেয়েছে।

২০২৫ শিক্ষাবর্ষের মাত্র ১৫ শতাংশ পাঠ্যবই মাঠ পর্যায়ে পৌঁছেছে
নানা চ্যালেঞ্জ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে, আসছে বছরের শুরুর দিন বিতরণ শুরু হলেও, সবার হাতে পৌঁছাবে না সব বই। প্রথম দিন সব বই পাবেন প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে বাংলা, ইংরেজি, ও গণিত। তবে এখন পর্যন্ত ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ১৫ শতাংশ বিনামূল্যের পাঠ্যবই মাঠ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সব বই ২০ জানুয়ারির মধ্যে সব শিক্ষার্থীর হাতে যাবে বলে প্রত্যাশা এনসিটিবি'র। আর প্রিন্টিং প্রেস মালিকরা বলছে, জানুয়ারি নয়, সব বই মাঠ পর্যায়ে পৌঁছাবে ফেব্রুয়ারির মধ্যে। তবে বিগত সময়ে নিম্নমানের বইয়ে সারাদেশ সয়লাব থাকলেও এবার মানসম্মত বই মুদ্রণ হতে দেখা যাচ্ছে প্রিন্টিং প্রেসগুলোতে।